শরিফুল হাসান
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বুর্যোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র থাকার পরও ১৩০ জন শ্রমিককে বিদেশে যেতে দেয়নি জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ।বিমানবন্দরের বিএমইটি কল্যাণ তহবিলের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁদের ছাড়পত্র ঠিক ছিল। কিন্তু অভিবাসন পুলিশের কম্পিউটারে ত্রুটির কারণে এ সমস্যা হয়েছে। তবে অভিবাসন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁদের যেখানে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তাঁরা সেখানে যাচ্ছিলেন না। এর বদলে তাঁরা অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাই তাঁদের যেতে দেওয়া হয়নি।পুলিশের বিশেষ শাখার ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই শ্রমিকেরা দুবাই ও কুয়েতে যাওয়ার কথা বলে মূলত ইরাকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাই তাঁদের বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া যেসব জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরা বিদেশে যাচ্ছিলেন, তাদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি অনেক শ্রমিক কুয়েত বা দুবাইয়ে যাওয়ার কথা বলে ইরাকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস চিঠি দিয়ে বিষয়টি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, কিছু প্রতিষ্ঠান ও দালাল ইরাকে কর্মী পাঠানোর জন্য অবৈধভাবে কুয়েতে বাংলাদেশিদের একত্রিত করছে। কিন্তু ইরাকের বৈধ ভিসা ছাড়া কুয়েত থেকে ইরাকে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সম্প্রতি এরূপ ৫২ জন কর্মী কুয়েতে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।বিএমটিইর বিমানবন্দরের কল্যাণ কর্মকর্তা মাহমুদুল্লাহ আকন্দ জানান, তাঁরা ১৩০ জন শ্রমিককে কুয়েত, সৌদি আরব, দুবাই, সিঙ্গাপুর, বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দেন। বিভিন্ন ফ্লাইটে তাঁদের বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বুধবার রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত তাঁদের কাউকেই বিমানে উঠতে দেয়নি অভিবাসন পুলিশ।মাহমুদুল্লাহ জানান, যেকোনো দেশে শ্রমিককে যেতে হলে বিএমইটির ছাড়পত্র লাগে। অভিবাসন পুলিশের কর্মকর্তারাও অনলাইনে এই ছাড়পত্র দেখতে পান। সেদিন হয়তো কম্পিউটারের ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে তাঁরা সেই ছাড়পত্র দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা অভিবাসন পুলিশকে জানাই যে আমরা তাঁদের ছাড়পত্র দিয়েছি। কিন্তু তারা কোনোভাবেই এই শ্রমিকদের যেতে দেয়নি।’বিএমইটির অভিবাসন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, বিমানবন্দরের কল্যাণ ডেস্ক একটি চিঠি পাঠিয়ে ১৩০ জন শ্রমিকের বিষয়টি তাঁদের জানিয়েছে। তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে চিঠি দেবেন।তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি গোলাম মুস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি গতকাল রোববার বিমানবন্দরে গিয়ে বিষয়টি জেনেছেন। তিনি বলেন, এমনিতেই জনশক্তি রপ্তানিতে মন্দা যাচ্ছে। সে সময় অভিবাসন পুলিশের কারণে যদি কেউ বিদেশে যেতে না পারে, সেটি এক ধরনের দায়িত্বহীনতা।জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এম এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মাসুমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সেদিন তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঁচজন শ্রমিক সৌদি আরবে যাচ্ছিলেন। তাঁদের ভিসাসহ সব কাগজপত্র ঠিক ছিল। কিন্তু অভিবাসন পুলিশ তাঁদের কম্পিউটার সার্ভারে শ্রমিকদের ছাড়পত্র দেখতে পাচ্ছিল না বলে তাঁদের যেতে দেয়নি। কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তারাও এ সময় পুলিশকে বলেন, তাঁদের ভিসা ঠিক। কিন্তু তার পরও অভিবাসন পুলিশ তাঁদের যেতে দেয়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশের অফিসার ইন চার্জ সহকারী পুলিশ সুপার নার্গিস সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, অনেককেই সেদিন বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। কারণ তাঁদের অনেকেরই ভিসা ছিল না। অনেকের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। তাই তাঁদের যেতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কতজন শ্রমিক যেতে পারেননি, কেন যেতে পারেনিন, তাঁরা সেগুলো অভিবাসন পুলিশের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করছেন। অভিবাসন পুলিশ বলছে ৫৩ জন, তাঁরা জেনেছেন ৬০ জন। সত্যিকারের সংখ্যা কত, সেটা জানার চেষ্টা চলছে।বিএমইটির মহাপরিচালক বলেন, অভিবাসন পুলিশ জানিয়েছে, যাঁদের যেতে দেওয়া হয়নি, তাঁদের অনেকের কাছ থেকে ভিন্ন দেশের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। যৌক্তিক কোনো কারণে তাঁদের যাওয়ার অনুমতি না দিলে কিছুই বলার নেই। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলছেন।



