বেতন বাড়ানোর দাবি

Spread the love

জর্ডানে বাংলাদেশি ৪০০ কর্মীর খাবার সরবরাহ বন্ধ

শরিফুল হাসান

বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করায় জর্ডানের একটি তৈরি পোশাক কারখানার ৪০০ বাংলাদেশি কর্মীকে খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আট দিন ধরে খাবার ও পানি না পেয়ে তাঁরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। ওই কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ দূতাবাসে বিষয়টি জানিয়েও কোনো সহায়তা তাঁরা পাচ্ছেন না।তবে দূতাবাস সূত্র গত সোমবার বলেছে, দুই দিন আগে বিষয়টি জেনে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন।জানা যায়, এই ৪০০ বাংলাদেশি জর্ডানের রাজধানী আম্মানের সাহাব শিল্প এলাকার আলতাজোমোর স্টারলিং অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে কর্মরত। তাঁরা কারখানায়ই থাকেন এবং তাঁদের খাবার দেয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে কর্মরত পাবনার আলতাফ হোসেন, সুনামগঞ্জের মাজু মিয়া, বরিশালের ইউনুস মিয়া, আবদুল হাইসহ আরও অনেকে গত সোম ও গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তাঁদের দুরবস্থার কথা জানান।আলতাফ হোসেন বলেন, ২০০৫ সালে পৌনে দুই লাখ টাকা খরচ করে তিনি জর্ডানে যান। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানি তাঁদের মাত্র ১১০ জর্ডানিয়ান দিনার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ হাজার টাকা) বেতন দিচ্ছে। কিন্তু আশপাশের অন্যান্য কারখানায় ন্যূনতম বেতন ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা। তাই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু বারবার আশ্বাস দিয়েও বেতন বাড়ানো হয়নি। এই অবস্থায় সপ্তাহ খানেক আগে তাঁরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।শহিদুল ইসলাম নামের আরেক বাংলাদেশি কর্মী জানান, খাবারের অভাবে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সহায়তার জন্য দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বারবার বললেও তাঁরা সহায়তা করছেন না। তাঁদের দুরবস্থা দেখার জন্যও দূতাবাসের কেউ আসেননি।কারখানাটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের ইনচার্জ জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, ৪০০ বাংলাদেশির পাশাপাশি সেখানে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ৪০০ কর্মী আছেন। ভারত ও শ্রীলঙ্কার কর্মীরা নিজ নিজ দূতাবাসে যোগাযোগ করে সমস্যা জানালে দূতাবাসের কর্মকর্তারা কোম্পানির লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাসের কেউ যাননি। কোম্পানির লোকজনও তাই বাংলাদেশি কারও সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছেন না।বাংলাদেশি কর্মী শাহীন ইসলাম, রফিক মিয়াসহ বেশ কয়েকজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভাই, বাংলাদেশ সরকারকে আপনারা একবার বলুন আমাদের অবস্থা দেখে যেতে।’ তাঁরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাসের সহায়তা কামনা করেন।সরকারি হিসাব অনুযায়ী জর্ডানে প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত। তাঁদের বেশির ভাগই কাজ করেন পোশাক কারখানায়।ওই ৪০০ বাংলাদেশির বিষয়ে জানতে চাইলে জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার তৌফিক ইসলাম শাতিল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে ওই কোম্পানির চুক্তি প্রায় শেষের দিকে। কোম্পানি এখন চাইছে চুক্তি নবায়ন করতে। কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকেরা বলছেন, তাঁদের বেতন বাড়াতে হবে। কোম্পানি বেতন বাড়াতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা অনশন শুরু করেন।তৌফিক ইসলাম আরও বলেন, ‘দূতাবাসের বিরুদ্ধে শ্রমিকেরা অসহযোগিতার যে অভিযোগ করেছেন, তা মোটেও ঠিক নয়। প্রথম দিকে তাঁরা বিষয়টি দূতাবাসকে জানাননি। দুই দিন আগে জানিয়েছেন। এর পর থেকে আমরা ওই কোম্পানির মালিক, শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলছি। কোম্পানি এখনো বেতন বাড়াতে রাজি হয়নি। তবে আমরা আশা করছি, খুব শিগগির সমস্যার সমাধান হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.