বাবা!

Spread the love

শরিফুল হাসান

মাইক্রোফোন হাতে নিয়েই কেঁদে ফেলে ছোট্ট শিশু আদিবা। কাঁদতে কাঁদতেই বলে, ‘পাপাকে (বাবা) ছাড়া একটুও ভাল্লাগে না আমার। কিচ্ছু ভাল্লাগে না।’ আদিবার বয়স যখন দুই বছর, তখন থেকেই সে আর তার বাবাকে খুঁজে পাচ্ছে না। এখন তার বয়স ১১ বছর। সে বিশ্বাস করে, একদিন না একদিন সে তার বাবাকে খুঁজে পাবে।

শনিবার বিকেলে মায়ের হাত ধরে আদিবা হাজির হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। সেখানে তাদের মতো ৪২টি পরিবার ছিল, যারা প্রিয় মানুষের খোঁজ পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষায় রয়েছে। আদিবার মতো হাফসা ইসলামের বাবা সাজেদুল ইসলামও নিখোঁজ হন ২০১৩ সালে।

বাবার কথা বলতে গিয়ে হাফসা বলেন, ‘আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই, আমার বাবাকে যদি মেরে ফেলে থাকেন, তাহলে লাশটা একটু দেখতে দিন। আমি আমার বাবার লাশটা দেখতে চাই। আমি বাবাকে শেষবারের মতো একটু ছুঁয়ে দেখতে চাই।’ আমি এই নিউজ গুলো পড়তে পড়তে কাঁদি। কাঁদতে কাঁদতে পড়ি। সাংবাদিক হিসেবে গুমের শিকার এই মানুষগুলোর পরিবারের সদস্যদের আর্তি দেখে ভীষণ কষ্ট লাগতো। আমি জানি না আদিবা বা হাফসাদের এই দেশ কী জবাব দেবে?

স্বজনহারাদের এই বেদনার শেষ কোথায়? আমি এমন একটা দেশ চাই, এমন একটা রাষ্ট্র যেখানে কেউ গুম হবে না, ক্রসফায়ার হবে না, হেফাজতে হত্যা হবে না, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে না। আমি এমন একটা দেশ চাই যেখানে রাষ্ট্রনায়ককে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে খুনিদের পুরুস্কৃত করা হবে না, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রেনেড হামলা হবে না।

একটা মানবিক সুন্দর বাংলাদেশ চাই। আপনারা যারা রাজনীতি করেন আপনারা যারা নীতি নির্ধারক এমনকি যারা সাধারণ মানুষ সবাইকে বলবে একবার নিজের সন্তানের কথা ভাবুন! একবার নিজের প্রিয়জনের কথা ভাবুন। চলুন আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ গড়ি। ঘৃণা আর হানাহানির সংস্কৃতি বন্ধ করি। সুশাসন আসুক এই বাংলাদেশে। আসুক ভালোবাসা! ভালো থাকুক প্রতিটি মানুষ!

Leave a Reply

Your email address will not be published.