জাপানে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা

Spread the love

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে সরকার, দোষীদের শাস্তি চান ব্যবসায়ীরাও

শরিফুল হাসান

জাপানে জনশক্তি রপ্তানির নামে প্রতারণার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার সনদ বাতিল, জামানত বাজেয়াপ্ত করাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জাপান আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা সংস্থার (জিটকো) মাধ্যমে লোক পাঠানোর প্রাথমিক অনুমতি পাওয়া রিত্রুদ্ধটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে গত রোববার বৈঠকে সরকারের এ অবস্থান জানানো হয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের সূত্র এসব জানায়।বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের বলা হয়েছে, জাপানে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর জন্য এক টাকা নেওয়ারও সুযোগ নেই। তাই কোনো রিত্রুদ্ধটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সনদ বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্তসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বৈঠকের বিষয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণসচিব জাফর আহমেদ খান প্রথম অলোকে বলেন, ‘জিটকোর মাধ্যমে কেবল ৬৬টি পেশার ১২৩ ধরনের প্রশিক্ষণার্থী (টেকনিক্যাল ইন্টার্ন) জাপানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বেকার বা যার-তার যাওয়ার সুযোগ নেই। কাজেই যার-তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ারও সুযোগ নেই। তাই কারও বিরুদ্ধে টাকা লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সনদ বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্তসহ অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার। সাধারণ মানুষেরও এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। তাঁরা যেন জাপানে যাওয়ার জন্য কাউকে টাকা না দেন।বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, জিটকোর মাধ্যমে জাপানে লোক পাঠানোর সুযোগ পেতে অনেক দেশই চেষ্টা করছে। কিন্তু সবাই সুযোগ পায়নি। কাজেই কোনো রিত্রুদ্ধটিং এজেন্সি অনৈতিক কাজ করে যেন এই সুযোগ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণার্থী নিতে ২০০৫ সালে জিটকোর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রথম সমঝোতা স্মারক সই হয়। গত বছরের ২১ মার্চ আরেকটি স্মারক স্বাক্ষর হয়। কিন্তু কোনো কিছু চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বায়রার সভাপতির প্রতিষ্ঠান সরকার রিক্রুটিং এজেন্সিস, রেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল, আর্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল, আমির অ্যাভিয়েশন, এলপি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জাপানে পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রতারণার তথ্য ঢাকার জাপান দূতাবাসেও পৌঁছেছে।এদিকে জাপানে লোক পাঠানোর নামে এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করেছে জিটকোর মাধ্যমে জাপানে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর প্রাথমিক অনুমতি পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে সানফ্লাওয়ার ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গুটিকয়েক রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা আর অপকর্মের কারণে আমাদের সবাইকে দায়ী হতে হচ্ছে। তাই আমরা চাই এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার হোক।’আমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ‘জাপানে লোক পাঠানোর নামে কিছু লোকের টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি কয়েক দিন আগে মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছিলাম। আমরা চাই, যারা এই প্রতারণা করেছে, তাদের সবার বিচার হোক।’ একই দাবি জানিয়েছেন তাফা হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের মালিক এ কে এম বারীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী।দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদ: ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড এবং মিতুল ট্রেডিং নামের দুটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোববার পাঠানো পৃথক প্রতিবাদপত্রে দাবি করেছে, জাপানে লোক পাঠানোর নামে কোনো টাকা-পয়সা লেনদেনের সঙ্গে তারা জড়িত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.