নগর ভবনের চাবি নারীদের হাতে
শরিফুল হাসান
রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি। ফলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কার্যালয় নগর ভবনের চাবিও নারী ভোটারদের হাতে। মেয়র পদপ্রার্থীদের মধ্যে যিনি নারীদের ভোট বেশি পাবেন তিনিই যাবেন নগর ভবনে। এ জন্য মেয়র পদপ্রার্থীরাও ১৫ জুন নারী ভোটারদের ভোট পেতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নারীদের কাছে প্রচারণা চালাতে নেমেছেন মেয়র পদপ্রার্থীদের স্ত্রীরা এবং বিপুলসংখ্যক নারী।রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার দুই লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৬ জন আর নারী এক লাখ ৪৩ হাজার ৫০২ জন।রাজশাহী মহানগরের উপশহর এলাকার বাসিন্দা ও চাকরিজীবী শিরিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়র পদপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করেই নারীরা ভোট দেবেন বলে আমার বিশ্বাস। এ ক্ষেত্রে কে কেমন উন্নয়নকাজ করেছেন বা করতে পারবেন, সেটিও বিবেচনায় আসবে।’রামচন্দ্রপুরের গৃহিণী বেগম নাহার বলেন, ‘উন্নয়ন করার ক্ষমতা আছে, আবার যোগ্য লোক—এমন প্রার্থীকেই আমরা মেয়র নির্বাচন করব।’নারী ভোটারদের ভোট টানতে সাবেক মেয়র ও নাগরিক কমিটির মেয়র পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে তিনি ইশতেহারের ২৮ নম্বর প্রতিশ্রুতিতে বলেছেন, নারীদের প্রতি সহিংস আচরণ বন্ধে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও নারীনেত্রীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ কর্মসূচি নেবেন। এ ছাড়া নগরের সব বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য গ্যাসসংযোগ সম্প্রসারিত করা, পোশাক কারখানা স্থাপন করে নারীদের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।১৮ দল-সমর্থিত ও সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের ১০ নম্বর দফায় বলেছেন, নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে বিনা সুদে ৫০ হাজার টাকা দেবেন। নির্বাচিত হলে তিনিও বাসাবাড়িতে গ্যাসসংযোগ দেওয়ার এবং নারীদের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।নারী ভোটারদের সমর্থন আদায়ে মেয়র পদপ্রার্থীদের পক্ষে অসংখ্য নারী প্রচারণায় নেমেছেন। খায়রুজ্জামানের স্ত্রী শাহীন আক্তার এবং মোসাদ্দেকের স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও প্রতিদিন প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সংগীতশিল্পী মমতাজ গতকাল নগরের বিভিন্ন এলাকায় গান গেয়ে খায়রুজ্জামানের পক্ষে ভোট চান।নারী ভোটারদের পাশাপাশি এবার ভোটার হওয়া ২৮ হাজার তরুণও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এ জন্য তাঁদের সমর্থন পেতেও প্রার্থীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন।আজ প্রচারণা শেষ: সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা আজ বৃস্পতিবার শেষ হচ্ছে। তাই প্রার্থীরা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রচারণায়।মহাজোট-সমর্থিত প্রার্থী খায়রুজ্জামান গতকাল বুধবার সকালে রেলভবন দিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন। সেখান থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়াম মার্কেটে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ মকবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, ফজলে রাব্বি, আবদুল মান্নান, জাহিদ আহসান রাসেল, নগর আওয়ামী লীগের মাহফুজুল আলম, জাসদের আবদুল্লাহ আল মাসুদ, ওয়ার্কার্স পার্টির লিয়াকত আলী প্রমুখ।জনসংযোগকালে খায়রুজ্জামান বলেন, ‘গত সাড়ে চার বছরে রাজশাহী মহানগরের আনাচকানাচে দৃশ্যমান উন্নয়ন আপনাদের চোখের সামনে। আপনারাই এখন বিচার করবেন।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামী বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চাইবে। এদের তৎপরতা সম্পর্কে ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক থাকতে হবে।’মোসাদ্দেক হোসেন প্রচারণা চালান জেলখানা, সবুজবাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি বিভিন্ন কার্যালয়ে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক প্রমুখ।প্রচারণাকালে মোসাদ্দেক বলেন, ‘হেফাজত ইস্যুতে আমার সমালোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু শুধু হেফাজত নয়, এমন শতাধিক সংগঠন আমাকে নিঃস্বার্থভাবে সমর্থন দিয়েছে। এর সঙ্গে ১৩ দফার কোনো সম্পর্ক নেই।’



