আরও তিন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ

Spread the love

লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

শরিফুল হাসান

লিবিয়ায় অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় সতর্কভাবে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছে সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস। দেশটিতে বৈধ-অবৈধ মিলে ৪৫ হাজার বাংলাদেশি আছেন।
লিবিয়ায় গত মাসে দুজন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। চলতি সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও তিনজন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সেখানে বিদেশিদের ওপর প্রায়ই হামলার ঘটনা ঘটছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতন শ্রমবাজার লিবিয়া। ২০১১ সালে দেশটিতে যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর ৩৬ হাজার বাংলাদেশি ফিরে আসেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে গত দুই বছরে ২১ হাজার বাংলাদেশি নতুন করে সেখানে গেছেন। বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে এখন আছেন প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি।
লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে বেনগাজির তিন অস্ত্রধারীর গুলিতে তিন বাংলাদেশি আহত হন। তাঁরা হলেন শেরপুরের হযরত আলীর ছেলে সুমন আলী, ভোলার জসিমউদ্দিন ও নড়াইলের এনামুল মোল্লার ছেলে মোহসিন। সুমন আলী ও জসিমউদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত মোহসিনকে উদ্ধৃত করে দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাতে লিবিয়ার তিনজন অস্ত্রধারী জোর করে ওই তিন বাংলাদেশির ঘরে প্রবেশ করে মুঠোফোন, মালামাল ও প্রায় চার হাজার লিবিয়ান দিনার লুট করে। যাওয়ার সময় তারা এলোপাতাড়ি গুলি করে চলে যায়। সুমনের পিঠে, মোহসিনের কোমরে ও জসিমউদ্দিনের তলপেটে গুলি লাগে। স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী গতকাল রাতে জানান, আহত সুমন আলী ও মোহসিন বেনগাজির আল-জালা এবং জসিমউদ্দিন আল-মার্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহসান কিবরিয়া বলেন, লিবিয়ার পরিস্থিতি খুব ভালো নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই দূতাবাসের পক্ষ থেকে সব বাংলাদেশি নাগরিককে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ায় প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বেনগাজিতে বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে পড়ে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ২২ মার্চ সাতজন মিসরীয়কে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১২ মার্চ একজন ভারতীয় চিৎিসককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে বেনগাজিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলায় লিবিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। গত এক বছরে এভাবে শতাধিক বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ-পরবর্তী লিবিয়ায় বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সতেরো শ অস্ত্রধারী দল সক্রিয়। রাজনৈতিক সহিংসতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আঞ্চলিক ও উপদলীয় বিরোধে প্রায়ই সেখানে হামলার ঘটনা ঘটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.