সবাই বৈধ হচ্ছেন বলে প্রত্যাশা

Spread the love

মালয়েশিয়ায় পৌনে তিন লাখ অবৈধ বাংলাদেশির নিবন্ধন

শরিফুল হাসান

মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণ কার্যক্রমে দুই লাখ ৬৭ হাজার ৮০৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিক নাম নিবন্ধন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বৈধতার প্রতীক্ষায় থাকা এই শ্রমিকদের সবাই বৈধ হচ্ছেন।অবৈধ শ্রমিক ছাড়াও বৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে এক লাখ ৩২ হাজার ৯২৭ জন মালয়েশিয়ার ডেটাবেজে (তথ্যভান্ডার) নাম নিবন্ধন করেছেন।বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া ঘুরে এসে সরকারকে এই তথ্য জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।এ বছরের ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের বৈধ করার জন্য নাম নিবন্ধন চলে। এরপর শ্রমিকদের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট বিতরণ শুরু হয়। মোট ছয়টি ধাপে নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধন থেকে দেশে ফেরত পাঠানো পর্যন্ত ছয়টি ধাপ।সার্বিক এই কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল ১২ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া সফর করে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, প্রবাসী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুজন যুগ্ম সচিব এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। এই প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশি শ্রমিক ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।প্রতিনিধিদলের প্রধান বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়ায় দুই লাখ ৬৭ হাজার ৮০৩ জন অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক নাম নিবন্ধন করেছেন। এর বাইরে দেশটিতে তিন লাখ ১৯ হাজার ৪৭৫ জন বৈধ শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক লাখ ৩২ হাজার ৯২৭ জন নাম নিবন্ধন করেছেন। যাঁরা নাম নিবন্ধন করেননি, তাঁদের দ্রুত নিবন্ধন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং হাইকমিশনে দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে প্রতিনিধিদল কোনো তথ্য পেয়েছে কি না, জানতে চাইলে খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘এখন থেকে হাইকমিশন থেকে যাঁর পাসপোর্ট তাঁকেই সাক্ষাৎ কার দিয়ে নিতে হবে। এর মাধ্যমে দালালপ্রথা পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে আশা করা যায়। আর প্রবাসী শ্রমিকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, তাঁরা যেন কোনো কারণেই কোনো দালালকে টাকা না দেন।’কোনো অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক নিবন্ধনহীন রয়ে গেছেন কি না, জানতে চাইলে খোরশেদ আলম বলেন, মালয়েশিয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের শ্রমিক সবচেয়ে বেশি। কাজেই এখনো যদি কোনো বাংলাদেশি শ্রমিক নিবন্ধনের বাইরে থেকে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মধ্যে আবেদন করলে তাঁরাও নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মন্টু কুমার বিশ্বাস গতকাল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোট ছয়টি পর্যায়ে নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপ নাম নিবন্ধন। তবে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই যে দুই লাখ ৬৭ হাজার ৮০৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিক নাম নিবন্ধন করেছেন, ধরে নেওয়া যায় যে তাঁরা সবাই বৈধ হচ্ছেন।’২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশিদের কাজের অনুমতিপত্র দেওয়া বন্ধ রাখে মালয়েশিয়া। এ কারণে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে কলিং ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশিরা অবৈধ হয়ে পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.