রাজীব মীর হত্যা!

Spread the love

শরিফুল হাসান

আদালতের রায়ে আজকে আমার সেইদিনের কথাগুলোর সত্যতা মিললো। সাড়ে তিন বছর আগে ২০১৮ সালের ২১ জুলাই মারা গিয়েছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব মীর। আমি সেদিন লিখেছিলাম, আপনারা হয়তো একে অসুস্থতাজ‌নিত মৃত্যু বলবেন কিন্তু আমার কাছে তিলে তিলে হত্যা। লিখেছিলাম এই  দেশের পাব‌লিক বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের নোংরা রাজনীতির শিকার রা‌জিব মীর। আজকে হাইকোর্টের রায়ের পর সেই কথাগুলোর সত্যতা মিললো। কিন্তু ততোদিনে মানুষটি মরে গেছে!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র রাজীব মীর লেখাপড়া শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে অনেকদিন শিক্ষকতা করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাকরি থেকে বরখাস্ত করে আদেশ জারি করে। এর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন রাজীব মীর।

সেই  রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। রায়ে বরখাস্তের আদেশকে আদালত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন। আইন অনুযায়ী রাজীব মীরের চাকরির সুবিধাদি তাঁর স্ত্রীকে অবিলম্বে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আফসোস রাজীব ভাই এই রায় দেখে যেতে পারলেন না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের পর লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৮ সালের ২১ জুলাই মারা যান রাজীব মীর। তাঁর করা রিটে আবেদনকারী হিসেবে স্ত্রী সুমনা খান ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর পক্ষভুক্ত হন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহদীন মালিক ও এম মনজুর আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন।

রাজীব মীরের মৃত্যুর পর আমি লিখেছিলাম, জগন্নাথ বিশ্ব‌বিদ্যালয়, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা, গীবত, সবাই মিলে উচ্ছল মানুষ রাজীব মীরকে আমরা হত্যা করলাম।

 আজকে রায়ের পর রাজীব ভাইয়ের স্ত্রী সুমনা ভাবী লিখেছেন, ‘উনি বেঁচে থাকলে রায়টি আমাদের জন্য আরও বেশি আনন্দের হতো। অন্যায়ভাবে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, হাইকোর্টের রায়ে তা–ই প্রমাণিত হলো। আমাদের সন্তানের বয়স চার বছর। বড় হয়ে ও জানবে যে ওর বাবা কোনো দোষ করেননি। আমরা চাই রায় দ্রুত কার্যকর হোক। আর প্রত্যাশা, যাতে আর কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয়।’  (https://www.prothomalo.com/…/%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6…)

এই কথাটা দিয়েই শেষ করছি। এই দেশের নোংরা শিক্ষক রাজনীতি আর তাদের নোংরা কোন্দল বন্ধ হোক। আর কোন জীবন ধ্বংস না হোক। বিবেকবোধ জাগ্রত হোক সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.