সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, তবু শঙ্কা
শরিফুল হাসান
ছাত্রলীগের নিহত নেতা আল-আমিনই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রধান ইস্যু। সব পক্ষই তাঁকে ব্যবহার করে ভোটে জিততে চাইছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, আজ সোমবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। তবে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে শঙ্কা কাটেনি।
গতকাল রোববার শ্রীপুরের সাধারণ ভোটাররা জানান, নিহত আল-আমিন (২৪) আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল জলিলের কর্মী ছিলেন। জলিল আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের ভোটে প্রার্থী নির্বাচিত হন। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থন দেয় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেনকে। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জলিলকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অনড় থাকেন জলিল।
একপর্যায়ে র্যাব সদস্যরা তাঁকে ধরে গাড়িতে তুলে ভয় দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে তাঁর সমর্থকেরা মহাসড়ক অবরোধ করলে র্যাব জলিলকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন জলিলের সমর্থকেরা। ইকবালের লোকজন গুলি চালালে নিহত হন আল-আমিন। এর পরই পাল্টে যায় ভোটের হিসাবনিকাশ। জেলা আওয়ামী লীগ ইকবালের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে আবদুল জলিলকে প্রার্থী ঘোষণা করে। এরপর ইকবাল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানে।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, আল-আমিন মারা যাওয়ার পর শ্রীপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইকবাল হোসেনবিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠে। উল্টোদিকে র্যাবের হাতে আটক ও আল-আমিন মারা যাওয়ার পর আওয়ামী লীগসহ সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পান তেলিহাটী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তিনবারের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল। তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায়ও বারবার আল-আমিনের কথা বলেন।
আবদুল জলিল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে একজনকে গুলি করে হত্যার বিষয়টিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। আমি মনে করি আল-আমিনকে মনে রাখতেই মানুষ আমাকে ভোটে দেবে।’
অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল মোতালেব প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৫ মার্চের ভোটের আগে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসের কারণে শ্রীপুরে ত্রাস সৃষ্টি হয়। মারা যায় ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন। এ ঘটনায় শ্রীপুরের সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর ক্ষুব্ধ। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মানুষ আমাকেই ভোট দেবে।’
তবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বলছেন, পরিস্থিতির কারণে ইকবাল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। এ কারণে তিনি চাইছেন আবদুল জলিল নির্বাচনে পরাজিত হোক। তিনি তাঁর সমর্থকদের বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিতে বলেছেন এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে ইকবাল হোসেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন। শ্রীপুরে মোট ভোটার দুই লাখ ৯৯ হাজার ৩৯৪ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৬টি। এর মধ্যে ৯২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন প্রথম আলোকে জানান, শ্রীপুরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে পরিবেশ অনেক ভালো। নির্বাচনের দিন পুলিশ, আনসার ও র্যাব সদস্যদের পাশাপাশি মাঠে টহল দেবেন সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা। এ ছাড়া প্রায় ২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত টহলে থাকবেন।



