জর্ডানে কাজে যোগ দিয়েছেন বিক্ষোভকারী বাংলাদেশিরা
শরিফুল হাসান
জর্ডানে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর সব বাংলাদেশি শ্রমিক ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন। বেতন বাড়ানোর দাবিতে তাঁরা প্রায় তিন সপ্তাহ আন্দোলন করেন। জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, ১৫ জর্ডানিয়ান দিনার (বাংলাদেশি দেড় হাজার টাকা) করে বেতন বাড়ানোর আশ্বাসে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন।জর্ডানে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক মুঠোফোনে গত সোমবার প্রথম আলোকে জানান, বেতন বাড়ানোর আশ্বাসে রেইনবো টেক্সটাইল কোম্পানির ১৩০ জন বাংলাদেশি কর্মী গত সপ্তাহে প্রথম কাজে যোগ দেন। এরপর বাকিরা কাজে যোগ দিতে থাকেন। বিক্ষোভের সূচনা করা স্টারলিং অ্যাপারেলসের ৩৪০ বাংলাদেশিও গত সপ্তাহে কাজে যোগ দেন। সর্বশেষ সোমবার ওয়েসিস কারখানার ৩২০ জন শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। ফলে পরিস্থিতি এখন শান্ত।দূতাবাস সূত্র জানায়, জর্ডানের রাজধানী আম্মানের সাহাব শিল্প এলাকার আলতাজোমোর স্টারলিং অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে তিন সপ্তাহ আগে প্রথম বিক্ষোভ শুরু করেন। ধীরে ধীরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রেইনবো, ওয়েসিসসহ ছয়টি পোশাক কারখানায়। এসব কারখানার অন্তত দুই হাজার বাংলাদেশি কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নামেন।প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকেরা জানান, ১১০ জর্ডানি দিনার (১১ হাজার টাকা) থেকে বেতন বৃদ্ধি করে ১৫০ দিনার (১৫ হাজার টাকা) করার দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয়। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা এবং অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। শেষপর্যন্ত বেতন বাড়ানোর দাবি মেনে নেন মালিকেরা।জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব তৌফিক ইসলাম শাতিল প্রথম আলোকে জানান, জর্ডানের শ্রম আইন অনুযায়ী স্থানীয় শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম বেতন ১৫০ দিনার এবং বিদেশিদের ১১০ দিনার। বিদেশি শ্রমিকেরাও ১৫০ দিনার বেতনের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের রাষ্ট্র্রদূত জর্ডানের শ্রমসচিবের সঙ্গে কথা বলেন। কোম্পানির মালিকদের সঙ্গেও আলোচনা হয়। সর্বশেষ কোম্পানিগুলো ১৫ দিনার করে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ১১০ দিনার থেকে কর্মীদের বেতন বেড়ে হবে ১২৫ দিনার। শ্রমিকেরা এটি মেনে নিয়েছেন। সব বাংলাদেশি কাজে যোগ দিয়েছেন।জর্ডানের স্টারলিং কারখানায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতিনিধি আবদুল হাই মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বেতন ১৫ দিনার করে বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে মালিকপক্ষ। তাই আমরা কাজে যোগ দিয়েছি। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।’ একই কথা জানিয়েছেন পটুয়াখালীর জলিলুর রহমান, পাবনার আলতাফ হোসেনসহ অন্যরা।জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসাব অনুযায়ী, জর্ডানে কর্মরত প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশির বেশির ভাগই কাজ করেন পোশাক কারখানায়।


