তদবির রক্ষা না করায় রোষানলে পাবনার জেলা প্রশাসক
শরিফুল হাসান
বিভিন্ন তদবির ও আবদার রক্ষা না করে বিধি অনুযায়ী কাজ করার কারণে জেলা প্রশাসক স্থানীয় সাংসদ গোলাম ফারুক খোন্দকার ও তাঁর সহযোগীদের রোষানলে পড়েছেন। গত শুক্রবারের পরীক্ষা ভণ্ডুলও ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ।পাবনার আলোচিত কয়েকটি হত্যা মামলা থেকে নিজের কর্মী ও ঘনিষ্ঠজনদের নাম প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছিলেন পাবনা-৫ আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক খোন্দকার চেয়েছিলেন জেলার বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় তাঁর দলের কর্মীদের চাকরি দিতে। পৌরসভার বরাদ্দ গম থেকে অর্ধেক চেয়েছিলেন তিনি। চাহিদপত্র দিয়েছিলেন জামায়াত পরিচালিত একটি স্কুলের অধ্যক্ষের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য। ঠিকাদারির সব কাজও সাংসদের লোকজন নিজেরাই করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাবনা জেলা প্রশাসন বলেছিল, বিধি অনুযায়ী তারা সাংসদের এসব অনুরোধ রাখতে পারছে না।পাবনার পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় জনসাধারণ, আওয়ামী লীগের নেতা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সরকারি নথি অনুসন্ধান করে এসব তথ্য জানা গেছে।তবে সাংসদ গোলাম ফারুক খোন্দকার উল্টো জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন। গতকাল রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক একজন মিথ্যাবাদী ও মানসিক রোগী। তিনি প্রথম থেকেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। আমাকে কোনো কাজেই তিনি সহযোগিতা করছেন না। আমার সঙ্গে তিনি বারবার প্রতারণা করেছেন। এভাবে চলতে পারে না।’সাংসদের ঘনিষ্ঠ ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদ একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ ‘দুই খলিফা’ বলে পরিচিত মোশাররফ হোসেন ও কামিল হোসেনই সবকিছুর জন্য দায়ী। তাঁরাই সাংসদকে দিয়ে সব অন্যায় কাজ করাচ্ছেন।মোশাররফ হোসেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কামিল হোসেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।পাবনার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সাংসদ এখানকার জনপ্রতিনিধি। কিন্তু জেলা প্রশাসক তাঁর কোনো কথাই শোনেন না।’কামিল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই জেলা প্রশাসক শুরু থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে। তিনি সরকারদলীয় কোনো নেতার কথাই শোনেন না। পাবনার মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। কাজেই তাদের জন্য তো কাজ করতে হবে।’জেলা প্রশাসক এ এফ এম মনজুর কাদিরের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব জানানো হয়েছে। তারাই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার নিয়ে দ্বন্দ্ব: অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাবনা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাংসদ গোলাম ফারুকের মূল সমস্যা শুরু হয় রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করা নিয়ে।জেলা প্রশাসন ও জেলার সরকারি কৌঁসুলির (পিপি) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাবনা থেকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের জন্য ৮০০ মামলা যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। এর মধ্যে সাংসদ ও আওয়ামী লীগের তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতারা প্রায় ২০০ মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন পুরো জেলা থেকে মাত্র সাতটি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।সরকারি নথি অনুযায়ী, পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান শেখ শহীদুল্লাহ হত্যা মামলার আসামি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন। ওই মামলার আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে মোশাররফ হোসেনের নাম বলেন। সাংসদ এই মামলা থেকে মোশাররফ হোসেনের নাম প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ পাঠান দলীয় প্যাডে। কিন্তু জেলা প্রশাসক এই হত্যা মামলা থেকে রাজনৈতিক বিবেচনায় মোশাররফকে অব্যাহতি দিতে রাজি হননি। ফলে ক্ষুব্ধ হন সাংসদ ও মোশাররফ হোসেন।এ ঘটনার পর থেকেই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান। সাংসদ ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান অনেক মামলা থেকে তাঁর নিজের লোকজনের নাম প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করেন। সরকারি নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, উপজেলা চেয়ারম্যান যেসব মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করেছিলেন, তার বেশির ভাগই হত্যা মামলা। চরমপন্থী সদস্যদের জন্যও সুপারিশ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান।জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের কথা বলে মোশাররফ ও কামিল বিপুল পরিমাণ টাকার নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার করতে না পারায় তাঁরা সমস্যায় পড়েন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ কমিটির সদস্য ও পাবনা জেলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বেলায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী পরিচয়ে সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান যেসব সুপারিশ দিয়েছিলেন, আমি তাঁদের দলীয় কর্মী বিবেচনা করে মামলাগুলো জেলা প্রশাসনে পাঠিয়েছি। কিন্তু জেলা প্রশাসন মামলার গুণাগুণ বিচার করে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। এটাই স্বাভাবিক।’শেখ শহীদুল্লাহ হত্যা মামলা সম্পর্কে পিপি বলেন, মামলাটি জটিল। ওই মামলার আসামিরা যে জবানবন্দি দিয়েছেন, এরপর চাইলেও হয়তো উপজেলা চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ ছিল না।উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল জোট সরকারের আমলে। সেই মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করেছিলেন সাংসদ। কিন্তু জেলা প্রশাসক সেটি করেননি।’নিয়োগের তদবির: জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের এপ্রিল মাসে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ১২ জন এমএলএস নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাংসদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের দ্বন্দ্ব বাধে। ওই নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা ও নারী কোটার জন্য পাঁচটি পদ ছিল। দুটি পদ ছিল সুপারের। সাংসদ দাবি করেন, তাঁকে সব মিলিয়ে ১০টি পদ দিতে হবে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটির বেশি পদ সাংসদকে দেওয়া হবে না। এর পর সাংসদ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।এ ছাড়া জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৭৪টি কর্মচারী নিয়োগের পরীক্ষায়ও নিজের কোটা চেয়েছিলেন সাংসদ। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় সাংসদের লোকজন কেউই চাকরি পাননি।জানতে চাইলে সিভিল সার্জন কে এম আশরাফুজ্জামান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষায় পাস না করায় অজ্ঞাত লোকজন টেলিফোন করে আমাকে হুমকি দেয়। তারা জানায়, এই পরীক্ষা বাতিল করতে হবে। কারণ তাদের প্রার্থী পাস করেনি। এ ছাড়া স্থানীয় কিছু লোক যখন-তখন জোর করে হাসপাতালে ঢুকতে চায়।’একইভাবে গত মাসে বিএডিসিতে শ্রমিক নিয়োগের সময় সাংসদদের লোকজন টেবুনিয়ায় গিয়ে কর্মকর্তাদের মারধর করেন। বিএডিসিরি উপপরিচালক জেলা প্রশাসকের বৈঠকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ছাড়া ভর্তি-বাণিজ্য করতে না পেরে সাংসদের সমর্থকেরা সরকারি বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে সাংসদ গোলাম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা। আমি বরং জেলা প্রশাসককে বলেছিলাম, আপনার ওখানে যাঁরা অস্থায়ীভাবে কাজ করেন, তাঁদের চাকরি দেন। কিন্তু তিনি যা-তা বলছেন।’সর্বশেষ তাণ্ডব: ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের কম্পিউটার অপারেটর, সাঁটলিপিকারসহ মোট ১৭টি পদের নিয়োগের পরীক্ষা ছিল। জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, এই নিয়োগ পরীক্ষার আগেই সাংসদ তাঁর দলের লোকজনকে চাকরি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু জেলা প্রশাসক জানান, এ নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার। তাঁর কিছুই করার নেই। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাংসদের লোকজন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হামলা চালান।তবে সাংসদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পরীক্ষার্থীরা নিশ্চিত করেছেন, সেদিন প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া হামলায় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী।বরাদ্দ নিয়ে সমস্যা: পাবনা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের জুনে পৌরসভার জন্য ১৫২ দশমিক ৯৯৮ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ আসে। নিয়ম অনুযায়ী, পৌরসভার বরাদ্দ করা গম পৌরসভার চেয়ারম্যান তাঁর তালিকা অনুযায়ী বরাদ্দ করবেন। কিন্তু সাংসদ গোলাম ফারুক নির্ধারিত ২৯টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৬ মেট্রিক টন গমের বারাদ্দ চেয়ে একটি তালিকা দেন জেলা প্রশাসনের কাছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই গম পৌরসভার। কাজেই জেলা প্রশাসনের কিছুই করার নেই। জেলা প্রশাসক সাংসদকে পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন সাংসদ। পরে ওই গম ফেরত যায়।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০ অর্থবছরে টিআর ও কাবিখার বরাদ্দ নিয়ে সাংসদের লোকজনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। জেলা প্রশাসন তদন্ত করে এগুলোর সত্যতা পায়।এ ছাড়া গত আগস্ট মাসে জেলা প্রশাসনে বরাদ্দ করা ঢেউটিন থেকে সাংসদ ৬৫ বান্ডিল টিন বরাদ্দ চান। জেলা প্রশাসক জানান, এই টিন নদীভাঙন এলাকার জন্য বরাদ্দ। কাজেই সাংসদকে দেওয়া সম্ভব নয়।বরাদ্দের এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ গোলাম ফারুক বলেন, ‘পৌর মেয়র বিএনপির। তাই আমি জেলা প্রশাসককে একটি তালিকা দিয়েছিলাম। বলেছিলাম সমন্বয় করে বরাদ্দ দিতে। কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।’ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ: জেলার একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সব ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ করেন সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কামিল হোসেন। কোনো কাজে যত দরপত্র আবেদনই পড়ুক না কেন, কামিলই ঠিক করে দেন কে কাজ নেবেন। পরে যাঁকে কাজ দেওয়া হয়, তিনি তখন বাকি ঠিকাদারদের জন্য একটি কমিশন দেন। কামিলের ভাই জামিল হেরোইনসহ কিছুদিন আগে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন।এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কামিল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশেই এখন ঠিকাদারেরা একসঙ্গে মিলে কাজ করেন, যাতে ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে দোষের কিছু নেই।’জামায়াতের প্রতিষ্ঠানের জন্য সাংসদের তদবির: পাবনায় জেলার মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, কেউ সাংসদের কথা না শুনলেই সাংসদ ও তাঁর লোকজন রাজাকার বলে গালিগালাজ করেন। অথচ জামায়াতের নেতা মাওলানা আবদুস সুবহানের দারুল আমান ট্রাস্ট পরিচালিত পাবনা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চিঠি দিয়েছিলেন গোলাম ফারুক। এ বছরের ১৪ জুন দেওয়া ওই চিঠিতে সাংসদ ওই প্রতিষ্ঠানের নানা ইতিবাচক তথ্য তুলে অধ্যক্ষের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাংসদ বলেন, ‘আমি কখনোই এ ধরনের সুপারিশ করিনি। ওটা জামায়াত নেতার প্রতিষ্ঠান। ডিসিই ওই অধ্যক্ষের মেয়াদ বাড়িয়েছেন।’ আপনার সুপারিশের কাগজ আছে জানালে তিনি বলেন, ‘একজন আমার কাছ থেকে ওই সুপারিশে স্বাক্ষর নিয়ে গেছে। পরে আমি জানতে পেরে সেটি প্রত্যাহার করেছি।’গ্রেপ্তার হননি আসামিরা: গত শক্রবার সকালে জেলা প্রশাসনের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়।জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সেদিনের হামলার ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। তারা ভাঙচুরের সময় কাউকে থামানোর চেষ্টা করেনি। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও তারা মাত্র একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। অন্য আসামিরা প্রকাশ্যেই শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নিয়মিত বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে।পরীক্ষা ভণ্ডুলের ঘটনায় যুবলীগের চার নেতাকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ এখনো কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।এ ব্যাপারে সাংসদ বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। মামলা হয়েছে। যা হওয়ার হবে। কিন্তু তারা (প্রশাসন) বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে।’বিভাগীয় কমিশনারের সফর: রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার স্বপন কুমার রায় গতকাল পাবনা সফর করেন। তিনি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তারা বিভাগীয় কমিশনারকে বলেন, অচিরেই আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে তাঁরা আবার আগের কর্মসূচিতে ফিরে যাবেন। এ সময় কমিশনার তাঁদের ধৈর্য ধরতে বলেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব জানানো হয়েছে।



