১২ দূতাবাসে শ্রম শাখা চালু আটকে আছে
শরিফুল হাসান
সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরও বিদেশে ১২টি দূতাবাসে নতুন শ্রম শাখা চালু এবং এসব শাখায় কর্মকর্তাদের যোগদান আটকে আছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না দেওয়ায় এই সংকট। বিষয়টি নিয়ে এই দুটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দুই মাস ধরে টানাপোড়েন চলছে। সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকও হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই প্রবাসীদের পাশে থাকতে। প্রয়োজন ও গুরুত্ব অনুধাবন করেই দূতাবাসগুলোতে শ্রম শাখা চালু করা হয়েছিল। সবার উচিত এ বিষয়ে সহযোগিতা করা। কিন্তু আমরা সেটি পাচ্ছি না।’
বিদেশে বাংলাদেশের ৫৮টি দূতাবাস থাকলেও সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, লিবিয়া, ইরাক, ইতালি, জাপান ও জর্ডানে শ্রম শাখা আছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইতালি, ব্রুনাই, গ্রিস, জার্মানি, লেবানন, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, বার্মিংহাম, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জেনেভা, মালদ্বীপ, মরিশাস, মিসর, সুইডেন, স্পেন, রাশিয়া, রুমানিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি, হংকং ও থাইল্যান্ডে শ্রম শাখা খোলার প্রস্তাব পাঠায়।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই বছরের জুলাইয়ে সুইডেন, রুমানিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনি বাদে বাকি ১৯টি শ্রম শাখার অনুমোদন দেয়। এর বছর খানেক পর অর্থ মন্ত্রণালয় ইতালি, ব্রুনাই, গ্রিস, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, জেনেভা, মালদ্বীপ, মিসর, স্পেন, রাশিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড—এই ১২টি শ্রম শাখা খোলার প্রস্তাব অনুমোদন করে। গত অক্টোবরে সচিব কমিটির অনুমোদনের পর ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। এই ১২টি শ্রম শাখায় ১২ জন প্রথম সচিব, চারজন শ্রম কাউন্সেলরসহ মোট ২০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে নিয়োগ-প্রক্রিয়া শেষে বিসিএস ক্যাডারের এই নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।পরে তাঁদের যোগদানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক পাসপোর্টের আবেদন করা হয়। কিন্তু এখনো তাঁরা কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাননি।এ ছাড়া লিবিয়ার শ্রম শাখার প্রথম সচিব এবং রিয়াদ ও মালয়েশিয়ার কাউন্সেলরের চাকরির মেয়াদ শেষে সেখানে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরাও কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাননি।
বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা মন্তব্য করেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, জেনেভা, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, রাশিয়া—এসব দূতাবাসে শ্রম শাখা খোলার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া নিয়োগ-প্রক্রিয়া নিয়েও কিছু প্রশ্ন আছে। কারণ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা থাকলেও যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের দূতাবাসে কিংবা প্রবাসীকল্যাণসংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা নেই। সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজনের সুপারিশে তাঁদের কয়েকজন নিয়োগ পেয়েছেন। অবশ্য প্রবাসীকল্যাণসচিব খোন্দকার শওকত হোসেন বলেন, যথাযথভাবে নিয়োগ-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সমস্যা সমাধানে গত জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদারের সভাপতিত্বে পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয়, ব্রুনাই, মিসর, মালদ্বীপ ও হংকংয়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা যেন দ্রুত যোগদান করতে পারেন, সে বিষয়টি দেখবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, স্পেন, রাশিয়া, থাইল্যান্ড ও জেনেভায় নিয়োগপ্রাপ্তদের এখনই পাসপোর্ট দেবে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বদলি হিসেবে যাবেন, এমন দুই কর্মকর্তাকে ওই বৈঠকের পর কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণসচিব বলেন, পদগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে সময়ের প্রয়োজনেই। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কিছু পদে এখনই নিয়োগ দেওয়া হবে, কিছু পরে।
আবদুস সোবহান শিকদার বলেন, ‘সব বিধি মেনে নিয়োগ হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন বলছে, জেনেভা, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, রাশিয়া কিংবা গ্রিসে এ মুহূর্তে কর্মকর্তা নিয়োগের প্রয়োজন আছে বলে তাঁরা মনে করেন না। কারণ ইউরোপে মন্দা চলছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেসব দেশে এ মুহূর্তে দরকার নেই, সেগুলোর বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে। যেখানে এখনই কর্মকর্তা দরকার, সেখানে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ওই কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সুরাহা হবে।’



