অক্টোবরে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশ

Spread the love

শরিফুল হাসান

চলতি বছর অক্টোবর মাসে চাকরি নিয়ে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। গত বছর অক্টোবর মাসে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৩৩৪ জন। এ বছর একই মাসে তা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৩৬৩ জনে, যা গত বছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩২ শতাংশ কম।চলতি বছরের গত ১০ মাসে মোট তিন লাখ ২৪ হাজার ২৬৭ জনের বিপরীতে গত বছরে একই সময়ের মধ্যে বিদেশে গেছেন চার লাখ এক হাজার ৫০৫ জন কর্মী। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।বিএমইটির হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের প্রতিটি মাসের তুলনায় এবার জনশক্তি রপ্তানি কমেছে। এর কারণ জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চাহিদা না বাড়ায় জনশক্তি রপ্তানি কমছে। এখন এর বাজার বাড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।তবে জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশ কুয়েত এবং মালয়েশিয়ার জনশক্তি রপ্তানিবাজার এক অর্থে বন্ধই আছে। মূলত এ কারণে জনশক্তি রপ্তানি কমছে। এই বাজারগুলো ধরতে না পারলে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া হঠাৎ করে লিবিয়ার বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। গত মাসে ৪৮৪ জন সৌদি আরব, ১১৬ জন মালয়েশিয়া ও মাত্র দুজন কর্মী কুয়েতে গেছেন। লিবিয়ায় যাওয়ার জন্য গত কয়েক মাসের মতো অক্টোবরেও কোনো কর্মী ছাড়পত্র পাননি।বিমএইটির অভিবাসন-সংক্রান্ত শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের অক্টোবর মাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ১৬ হাজার ২৯৮ জন কর্মী সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন। এ ছাড়া তিন হাজার ৯২৯ জন ওমান এবং তিন হাজার ৫৫২ জন কর্মী সিঙ্গাপুরে গেছেন। এ ছাড়া বাহরাইনে দুই হাজার ১৫, কাতারে এক হাজার ৩৯৩, লেবাননে এক হাজার ২০৫, জর্ডানে ৮৪২, ইতালিতে ৫০১, মিসরে ৩২১, ব্রুনেইতে ৩৩৮ ও মরিশাসে ৩৫৯ জন কর্মী গেছেন।বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এ বছর চার লাখেরও বেশি কর্মী বিদেশে যাবেন। বৈদেশিক কর্মসংস্থানসচিব জাফর আহমেদ খান জানান, এ বছর জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ নির্ধারণ করা হয়েছে।তবে রপ্তানিকারকেরা এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও শঙ্কিত। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, এরই মধ্যে বছরের ১০ মাস পেরিয়ে গেছে। এ সময় মাত্র তিন লাখ ২৪ হাজার ২৬৭ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। প্রতি মাসে গড়ে ২৮ থেকে ৩০ হাজার কর্মী বিদেশে গেছেন। আগামী দুই মাসে যদি এই গড় ঠিক থাকে, তাহলেও চার লাখের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই।এ বছরের জানুয়ারি মাসে ৩৩ হাজার ৮৪৭, ফেব্রুয়ারিতে ২৭ হাজার ৪৯, মার্চে ৩৮ হাজার ২৪৪, এপ্রিলে ৩৫ হাজার ৬৪৭, মে মাসে ৩৩ হাজার ২৩৯, জুনে ৩৪ হাজার ৭৯৮, জুলাইয়ে ২৮ হাজার ৩৪৭, আগস্টে ৩১ হাজার ৭৮৭ ও সেপ্টেম্বরে ২৮ হাজার ৯৪৮ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।২০০৯ সালে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা চার লাখ ৭৫ হাজার ২৭৮ জন। এর আগে ২০০৮ ও ২০০৭ সালে এই সংখ্যা ছিল আট লাখের ওপরে।ফেরত: অভিবাসন শাখা থেকে জানা গেছে, অক্টোবর মাসে মোট দুই হাজার ৭৫৫ জন কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত এসেছে। এ নিয়ে গত ১০ মাসে ৩৮ হাজার ৭৯০ জন কর্মী ফেরত এলেন। গত মাসে সবচেয়ে বেশি এসেছেন সৌদি আরব থেকে। এ সংখ্যা ৯৩৩ জন। এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ৭৭৩ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৬১৪ জন কর্মী ফিরেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.