শরিফুল হাসান
চলতি বছরের ১১ মাসেই বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। বর্তমান সরকারের তিন বছরের মধ্যে এই সময়কে এ খাতের সবচেয়ে ভালো সময় বলে মনে করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এ সময়ে দেশটিতে গেছেন দুই লাখ ৫৪ হাজার ৭১৩ জন। একই সময়ে ওমানে গেছেন এক লাখ ২১ হাজার ৩৪১ জন কর্মী। একই সময়ে ৪৪ হাজার ৫৬৪ জন সিঙ্গাপুরে, ১৭ হাজার ৮৬৩ জন লেবানন, ১৩ হাজার ৯৭৭ জন সৌদি আরব, ১২ হাজার ৫৬৮ জন বাহরাইন, ১১ হাজার ৭১৫ জন কাতার, ছয় হাজার ৮৭৪ জন ইতালি, পাঁচ হাজার ১৯ জন মরিশাস, চার হাজার ৩৩৩ জন জর্ডান, চার হাজার ৫৭৮ জন ব্রুনাই, তিন হাজার ৩০৩ জন মিসর ও এক হাজার ৯৯২ জন কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন। এই ১১ মাসে মোট পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৫১২ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানি এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো। এ খাতের দুরবস্থা কেটে গেছে।’ বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর জনশক্তি রপ্তানি এক লাখের নিচে ছিল। ১৯৮৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বছরে দেড় থেকে দুই লাখ কর্মী গড়ে বিদেশে গেছেন। ২০০৬ সালে গেছেন তিন লাখ ৮১ হাজার ৫১৬ জন। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে আট লাখ করে কর্মী বিদেশে গেছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে চার লাখ ৭৫ হাজার ২৭৮ জন ও ২০১০ সালে তিন লাখ ৯০ হাজার ৭০২ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও আরব বিশ্বে গণ-আন্দোলনসহ বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনশক্তি রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসে। এই সময়ে মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারণে এ খাতটি সচল থাকে। পাশাপাশি বড় বাজার পাওয়া গেছে ওমানে।বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, জনশক্তি রপ্তানি পাঁচ লাখ ছাড়ানো বিষয়টি ইতিবাচক। তবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রচলিত বাজার হচ্ছে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, লিবিয়া। এসব দেশে জনশক্তি রপ্তানি স্বাভাবিক করতে সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে।



