রাজশাহী সিটি নির্বাচন

Spread the love

বিএনপির পথের কাঁটা জামায়াত

শরিফুল হাসান


নিজেদের একাধিক প্রার্থীর সমস্যা সমাধান করতে পারলেও রাজশাহীতে জামায়াতকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন কাল রোববার। কিন্তু জামায়াতের মহানগরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর এখনো প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। কিন্তু এখানে জামায়াতের সুনির্দিষ্ট কিছু ভোট রয়েছে। সে কারণে দর-কষাকষি করতে চায় তারা। জামায়াত মেয়র পদ নিয়ে বিএনপিকে সংসদ সদস্য পদ দিতে চাইছে। এ পরিস্থিতির সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান। কারণ, রাজশাহী মহানগরের বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বেশি। তবে তিনি এখনো এ ব্যাপারে শক্ত কোনো উদ্যোগ নেননি। বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেনের ঘনিষ্ঠজনেরা অভিযোগ করছেন, সবকিছু জেনে-বুঝেই কলকাঠি নাড়ছেন মিজানুর রহমান। কারণ, ২০০৮ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। সেবার দলের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্বাচন করেন মোসাদ্দেক হোসেন। সেটি ভালোভাবে নেননি মিজানুর। আর এবার তিনি নিজেই মেয়র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এ জন্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই নগরজুড়ে পোস্টার লাগিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানান দেন। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা না পাওয়ায় তিনি নির্বাচন করতে পারছেন না। এরপর তিনি সমর্থন দেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হককে। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশে শফিকুল মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এ অবস্থায় একেবারে মন থেকে মোসাদ্দেককে সমর্থন করতে পারছেন না মিজানুর রহমান। আবার পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মোসাদ্দেক জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।যোগাযোগ করা হলে নাদিম মোস্তফা বলেন, ‘মোসাদ্দেক আমার সহযোগিতা চেয়েছেন। আমাকে তাঁর পক্ষে কাজ করার অনুরোধ করেছেন। আমি জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে করণীয় ঠিক করব।’ এদিকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী না দিলেও ১৮-দলীয় জোটের শরিক জামায়াত এবার রাজশাহী মহানগরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদে দাঁড় করিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতা-কর্মীরা। জামায়াতের মহানগরের এক নেতা বলেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুলকে আগামী সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৩ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মেয়র নির্বাচন থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু ওই আসনটিসহ রাজশাহীর অন্তত দুটি আসনের দাবিদার জামায়াত। এ নিয়ে কোনো কথাই বলছে না বিএনপি। ফলে তারা নির্বাচন থেকে সরবে না। জানতে চাইলে মহানগর জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি আবু মুহাম্মদ সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখনো নির্বাচন থেকে সরে আসার কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’ আপনারা নির্বাচন করলে বিএনপির সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। সংসদ নির্বাচনে কোনো আসনের বিনিময়ে আপনারা ছাড় দেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কথাবার্তা চলছে। আর রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে দুটি তো অন্তত আমাদের দেওয়া উচিত।’ বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বের বিষয়ে জানতে চাইলে মোসাদ্দেক হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২৬ তারিখেই জামায়াত তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবে।’ সাবেক মেয়র মিজানুর রহমানও আশা করেন, জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.