পিএসসিতে ৭২টি পদ শূন্য

Spread the love

শরিফুল হাসান


বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ে উপপরিচালকের মোট পদ ১৯টি। কিন্তু নিয়মিত হিসেবে কর্মরত মাত্র চারজন। দুজন আছেন চলতি দায়িত্বে। তিনটি পদ শূন্য। বাকি ১০টি পদে বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রেষণে আনা কর্মকর্তাদের দিয়ে কাজ চলছে।পিএসসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কমিশনের প্র্রথম শ্রেণীর ২৩টি পদ শূন্য। এর মধ্যে সহকারী পরিচালকের ১১টি পদে নিয়োগের পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে আড়াই বছর আগে। কিন্তু এখনো তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া কমিশনে দ্বিতীয় শ্রেণীর ১৪টি এবং কর্মচারীর ৩৫টি পদ শূন্য।নাম না প্রকাশের শর্তে পিএসসির একজন সহকারী পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিনেও শূন্যপদগুলো পূরণ না হওয়ায় পিএসসির কাজকর্মে ধীরগতির সৃষ্টি হচ্ছে। একেকজন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে হচ্ছে। ফলে ফল প্রকাশসহ সব কাজে বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে।পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, কমিশনকে ‘অকার্যকর করার জন্য’ এখানে কোনো লোক নিয়োগ দিচ্ছেন না বর্তমান চেয়ারম্যান। এর বদলে তিনি নিজের পছন্দমতো লোকজন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে এনে তাঁদের দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন। এটিসহ অন্যান্য ব্যাপারে চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানার জন্য টেলিফোনে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।পিএসসিতে বর্তমানে সচিব, যুগ্ম সচিব, দুজন উপসচিব, একজন আইন কর্মকর্তা, ১০ জন উপপরিচালক এবং জনসংযোগ কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জন প্রেষণে কাজ করছেন। সহকারী পরিচালকের ১১টি পদ ছাড়াও পরিচালকের দুটি, সিস্টেম এনালিস্টের একটি, পরিসংখ্যান কর্মকর্তার একটি, সহকারী প্রোগ্রামারের দুটি, কনিষ্ঠ মনোবিজ্ঞানীর দুটি ও গবেষণা কর্মকর্তার একটি পদ শূন্য। এর মধ্যে সহকারী পরিচালকের পদগুলো শূন্য থাকার কারণে পিএসসির স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।পিএসসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ১১টি সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষার পর ফল প্রকাশসহ সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে দুই বছর আগে। কথা ছিল—দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তাঁরা যোগ দেবেন। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। চূড়ান্ত হওয়া ওই ১১ জনও প্রথম আলোকে বলেছেন, পিএসসির চেয়ারম্যান ‘নানা অজুহাতে’ তাঁদের কাজে যোগ দিতে দিচ্ছেন না।এর কারণ জানতে চাইলে পিএসসির সচিব চৌধুরী বাবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ১১ জনের নিয়োগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাঁদের নিয়োগের জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমাদের সময় দরকার কি না, জানতে চেয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় একটি চিঠি দিয়েছে। শিগগিরই ওই চিঠির জবাব দেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.