শরিফুল হাসান
২০১১ সালের প্রথম তিন মাসে এক লাখ ১০ হাজার ৯৩১ জন কর্মী চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১১ হাজার ৭৯১ জন বেশি। তবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী ফিরেছেনও বেশি। এ সংখ্যা ৪৭ হাজার। এর মধ্যে ৩৫ হাজার জনই ফিরেছেন সংঘাতপূর্ণ লিবিয়া থেকে। গত বছরের একই সময়ে বিদেশ থেকে ফিরেছিলেন ১১ হাজার ১২১ জন কর্মী।জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বিএমইটির হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি মাসে ৩২ হাজার ৯২৪ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৩ হাজার ৪০৩ এবং মার্চে ৪৪ হাজার ৬০৪ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন গত সপ্তাহে তাঁর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে সমস্যা সত্ত্বেও মার্চে ৪৪ হাজার ৬০৪ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এই সংখ্যা খুবই ইতিবাচক। সৌদি আরবের বাজার চালু হলে কর্মী যাওয়া আরও বাড়বে।বিএমইটির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতকেন্দ্রিক (ইউএই)। সৌদি আবর ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে এখনো এ দেশটিই মূল ভরসা। গত তিন মাসে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে ৫৬ হাজার ৭০৩ জনই গেছেন এ দেশটিতে। গত বছরের একই সময়ে গিয়েছিলেন ৫৬ হাজার ৭৫ জন।কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে আছে ওমান। গত তিন মাসে সেখানে গেছেন ১৭ হাজার ৩৯৯ জন। গত বছরের প্রথম তিন মাসে গিয়েছিলেন সাত হাজার জন। কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে আছে সিঙ্গাপুর। সেখানে গেছেন ১০ হাজার ৬৬৫ জন। গত বছরের একই সময়ে গিয়েছিলেন আট হাজার ৫৬৮ জন।এ ছাড়া গত তিন মাসে লেবাননে পাঁচ হাজার ৫৮ জন, বাহরাইনে চার হাজার ২৫০, কাতারে দুই হাজার ৭০৪, সৌদি আরবে দুই হাজার ৬৯৯, ইতালিতে দুই হাজার ২০৪, মিসরে এক হাজার ৮৬৩, ব্রুনাইয়ে এক হাজার ১২৪, মরিশাসে এক হাজার ৩৪২, জর্ডানে এক হাজার ৩৫৭ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন ৬৯৯ জন।গত তিন মাসে নারীকর্মীদের মধ্যে লেবাননে চার হাজার ২৪১ জন, সৌদি আরবে এক হাজার ৯৪২, জর্ডানে এক হাজার ৩৫৪, মরিশাসে ৫৩৬ এবং সিঙ্গাপুরে গেছেন ৯৮ জন। গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে জনশক্তি রপ্তানি কিছু বাড়লেও তা ২০০৯ ও ২০০৮ সালের তুলনায় কম। ২০০৯ সালের প্রথম তিন মাসে এক লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন এবং ২০০৮ সালের একই সময়ে দুই লাখ ২২ হাজার ৮৯৮ জন কর্মী বিদেশে যান।চলতি বছরের তিন মাসের জনশক্তি রপ্তানির এই চিত্রে আশাবাদী জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)। বায়রার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো বাংলাদেশ থেকে বেশি লোক যাচ্ছে সংযুক্ত আরব অমিরাতে, বিশেষ করে দুবাইয়ে। ওই দেশটি এখনো মুখ ফিরিয়ে নেয়নি বলেই আমাদের শ্রমবাজার টিকে আছে। আর দুবাইতে আমাদের কর্মীরাও অনেক ভালো আছে।’ লিবিয়ায় সমস্যার কারণে অনেক বেশি লোক ফিরে এসেছেন। এ কারণেই গত তিন মাসে ফেরার সংখ্যা বেশি। তবে সৌদি আরবের বাজার চালু হলে শ্রমবাজার আরও ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।



