জনশক্তি রপ্তানি খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে টাস্কফোর্স

Spread the love

শরিফুল হাসান

বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে আরও গতিশীল ও দক্ষ করতে টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। জনশক্তি রপ্তানি খাতের প্রতারণা ঠেকানো, ভিসা নিয়ে অনৈতিক প্রতিযোগিতা, জনশক্তি রপ্তানির নামে মানব পাচার এবং ভ্রমণ ভিসায় বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বন্ধের কাজটিও করবে এই টাস্কফোর্স।বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আসাদুল ইসলামকে এই টাস্কফোর্সের প্রধান করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তিনি প্রথম আলোকে টাস্কফোর্স গঠনের কথা জানিয়ে বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে আরও গতিশীল ও দক্ষ করতে এবং সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতেই এই টাস্কফোর্স। তিনি জানান, আপাতত টাস্কফোর্সের ছয়টি কার্যপরিধি ঠিক করা হলেও জনশক্তি রপ্তানিসংক্রান্ত অন্য যেকোনো বিষয় প্রয়োজন মনে করলে তা নিয়ে কাজ করবে টাস্কফোর্স।মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নানা অনিয়মের অভিযোগে বিদ্ধ জনশক্তি রপ্তানি খাতকে সরকার একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে চায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে বারবার এ বিষয়ে তাগাদা দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে টাস্কফোর্সটি গঠন করা হলো। ৫ জুলাই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ, পররাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তারা এই টাস্কফোর্সে থাকবেন। টাস্কফোর্স গঠনকে স্বাগত জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জোট বায়রা। সংগঠনটির মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে অনেক কাজ করার আছে। এই টাস্কফোর্স সেগুলো করতে পারবে।’‘কিছু হলেই সব সময় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে দায়ী করা হয়’—এ মন্তব্য করে আলী হায়দার বলেন, ‘টাস্কফোর্সে সংশ্লিষ্ট সবাই থাকছেন। কাজেই এই খাতের সার্বিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলোর সমাধানে টাস্কফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টাস্কফোর্সের উদ্দেশ্য: টাস্কফোর্সের কার্যপরিধিতে ছয়টি বিষয় থাকবে। এগুলো হলো: যেসব প্রস্তাব ও সুপারিশ আসবে সেগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ, প্রতি মাসে পাঁচটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন এবং সেগুলো আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা, বিদেশগামী কর্মীদের সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে অন্তত দুবার অবৈধ মেডিকেল সেন্টার ধরার অভিযান, ভ্রমণ ভিসায় বিদেশগামীদের বিমান টিকিট বিক্রির সময় ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা, বিমানে ওঠার আগে ভ্রমণকারীদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অভিবাসন পুলিশের যাচাই এবং জনশক্তি রপ্তানির নামে শ্রমিক পাচার বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করা। এর বাইরেও জনশক্তি রপ্তানিসংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয় প্রয়োজনীয় মনে করলে তাও করতে পারবে টাস্কফোর্স। প্রতি মাসে গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে তারা।টাস্কফোর্সে যাঁরা থাকছেন: টাস্কফোর্সের সভাপতি করা হয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে। এ ছাড়া আটজন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মর্যাদার একজন প্রতিনিধি, উপসচিব মর্যাদার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ বুরে‌্যার (বিএমইটি) বহির্গমনবিষয়ক পরিচালক, পুলিশের বিশেষ শাখার উপকমিশনার পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা, বায়রার সভাপতি মনোনীত কার্যকরী পরিষদের একজন প্রতিনিধি, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব (কর্মসংস্থান)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.