কৃষিকাজে অভিজ্ঞরাই শুরুতে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন

Spread the love

শরিফুল হাসান

মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানির প্রথম ধাপে যাবেন কৃষিকাজে অভিজ্ঞ ৩০ হাজার কর্মী। তাঁরা কাজ করবেন বনায়ন (প্লান্টেশন) খাতে। মাসে তাঁদের ন্যূনতম বেতন হবে ৯০০ রিঙ্গিত (প্রায় ২৫ হাজার টাকা)। তাঁরা সব মিলিয়ে পাঁচ বছর সেখানে থাকার সুযোগ পাবেন।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্লান্টেশন খাতের কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সাতটি যোগ্যতা থাকতে হবে। এগুলো হলো: বাংলাদেশের নাগরিকত্ব, কৃষিকাজে অভিজ্ঞতা, বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, গ্রাম এলাকার প্রকৃত বাসিন্দা, উচ্চতা কমপক্ষে পাঁচ ফুট বা তদূর্ধ্ব, ওজন কমপক্ষে ৫০ কেজি এবং ২৫ কেজি মালামাল হাতে করে বহনের সক্ষমতা।চার বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ। দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর মালয়েশিয়া এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। গত ২৬ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে সরকারিভাবে কর্মী আদান-প্রদানের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।বিএমইটির মহাপরিচালক বেগম শামসুন্নাহার প্রথম আলোকে জানান, বনায়ন বা বৃক্ষায়ন (প্লান্টেশন), কৃষি, উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং), নির্মাণ এবং সেবা (সার্ভিস)—এ পাঁচটি খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। কর্মী নেওয়া শুরু হবে বনায়ন খাতের মাধ্যমে। পরে অন্যান্য খাতে নেওয়া হবে।প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া চলতি (ডিসেম্বর) মাসেই প্লান্টেশন খাতের কর্মী নিতে চাহিদাপত্র পাঠাবে। ওই চাহিদাপত্র আসার দুই মাসের মধ্যে নাম নিবন্ধন, কর্মী বাছাইসহ সব প্রক্রিয়া শেষ হবে। আমরা আশা করছি, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু করবে।’কর্মী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘চাহিদাপত্র পাওয়ার পর চলতি মাসের শেষ দিকে আমরা অনলাইনে নাম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি দেব। নাম নিবন্ধনকারীদের কোনো একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) আসতে বলা হবে। মোট ১৩টি কেন্দ্রে বাছাই হবে।’প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর আহমেদ খান বলেন, ‘আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কোটা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলার কোটা নির্ধারণ করব। একটি উপজেলার যে কোটা থাকবে, ওই কোটা শেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যাবে। অনলাইনে যাঁরা আগে নাম নিবন্ধন করবেন, তাঁরাই আগে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।’সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় যেতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ, বিমানভাড়াসহ সব মিলিয়ে একজন কর্মীর খরচ হবে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সি এম কয়েস সামি জানান, কারও ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে পুরো টাকাই ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। তিনি যত কিস্তিতে চান, তত কিস্তিতে সেই টাকা ফেরত দিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.