কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ

Spread the love

আ.লীগের প্রধান বাধা ছাত্রলীগ!

শরিফুল হাসান 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ এখন ছাত্রলীগ। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সিকদার। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রেজাউল করিম। তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত হলেও শেষ মুহূর্তে দল তাঁকে সমর্থন দেয়নি।

অন্যদিকে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সংকটে রয়েছে দলটি। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে দলের সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। এখানে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান হেলালউদ্দিন। ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল লতিফ। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ আহমেদ নির্বাচন থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেও তাঁর প্রতীক রয়েই যাচ্ছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খন্দকার আবদুস সালাম। তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। ২০০৯ সালেও তিনি নির্বাচন করে পরাজিত হন।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, চেয়ারম্যান পদে এখানে ছয়জন প্রার্থী থাকলেও মূলত কামাল উদ্দিন সিকদার ও রেজাউল করিমের মধ্যেই মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। রেজাউল তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত হলেও শেষ মুহূর্তে কেন্দ্র থেকে সমর্থন দেওয়া হয় কামাল উদ্দিনকে। এ নিয়ে বিশেষ করে ছাত্রলীগের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে।

কামাল উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘রেজাউল করিম একেবারেই বাচ্চা ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন। ২০১১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বিএনপির প্রার্থীর কাছে তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হন। এবার নির্বাচন করলেও তাঁর একই পরিণতি হতে পারে—এমন চিন্তা করেই কেন্দ্র থেকে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।’ কামাল উদ্দিনের দাবি, এবারও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

তবে রেজাউল করিম বলেন, তৃণমূলের নেতারা তাঁকেই নির্বাচিত করেছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা-কর্মীই তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। নির্বাচনে তিনি জয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

দুই দিন আগে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবদুল লতিফ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, উচ্চমাধ্যমিক পাস হলেও হেলালউদ্দিন শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন এলএলবি অনার্স। তিনি সংবাদ সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও হাজির করেন। তবে হেলালউদ্দিন বলেছেন, ‘বিদ্রোহী’ হওয়ায় লতিফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি অপপ্রচার চালাচ্ছেন। হেলালউদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনিই জয়ী হবেন।

কালিয়াকৈরের হরিণহাটি এলাকার ভোটার শহিদুল ইসলাম বলেন, কালিয়াকৈরে বিএনপির অবস্থা বেশি ভালো নয়। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগে লড়াই জমবে। কলেজশিক্ষক আবদুর রশিদের মতে, তৃণমূলের সমর্থন পাওয়ার পর রেজাউল করিমের অবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু এখন কামাল সিকদারের অবস্থা ভালো।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহনওয়াজ দিলরুবা খান বলেন, র‌্যাব-পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০টি ভ্রাম্যমাণ দল থাকবে। সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.