কক্সবাজারের তিন এনজিও নিয়ে বিপাকে সরকার

Spread the love

শরিফুল হাসান


কক্সবাজারের তিনটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ওই তিনটি এনজিওর কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ জুলাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ওই তিনটি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। এনজিও তিনটি হচ্ছে: এমএসএফ-হল্যান্ড, মুসলিম এইড-ইউকে ও ফ্রান্সের অ্যাকশন কন্ট্রা লা ফেইম বা এসিএফ। এগুলোর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের উসকানি দেওয়া এবং সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে দেখা করে এনজিও তিনটিকে ফের কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানায় ইউরোপীয় কমিশনের মানবিক সহায়তা সংস্থা ইউরোপীয় কমিশন ফর হিউম্যানিটারিয়ান এইডের মহাপরিচালক এস্কো কেনট্রচনস্কি। এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই আহ্বান জানায়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এ প্রতিষ্ঠানগুলো তিনটি এনজিওকে কক্সবাজারে কাজ করতে দিতে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।তাদের দাবি, এনজিও তিনটির কার্যক্রম বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটানো ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে সমস্যা হবে।তবে স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, ওই তিন এনজিওর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের পৃষ্ঠপোষকতার নানা অভিযোগ আছে। ২০১০ সালের নভেম্বরে ওই এনজিওগুলোর কার্যক্রম দেখতে গিয়েও নানা ধরনের অসংগতি পান এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক নূরন্নবী তালুকদার।ব্যুরো ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসিএফ কক্সবাজারসহ মোট নয়টি জেলায় কাজ করার জন্য ‘রিডিউস ম্যালনিউট্রিশন ইন বাংলাদেশ’ নামের একটি প্রকল্পের অনুমোদন নেয়। ২০০৯ সালের মার্চ থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নয়টি জেলায় তাদের প্রায় ৯৪ কোটি টাকার কাজ করার কথা। কিন্তু অন্য কোথাও কাজ না করে তারা শুধু কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে কাজ করেছে। এমএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে নেতিবাচক তথ্য প্রকাশ করার অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে ২০১০ সালের ৮ মার্চ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্থাটির নেতিবাচক প্রচারণায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ছাড়া এমএসএফ অবৈধভাবে আসা রোহিঙ্গাদের রেশন, আর্থিক সুবিধা ও বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। মুসলিম এইড-ইউকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ জয়নুল বারী প্রথম আলোকে বলেন, কক্সবাজারের বেশ কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে অবৈধ রোহিঙ্গাদের নানাভাবে সহায়তা এবং এ দেশে আসতে উৎসাহিত করার অভিযোগ আছে। এর মধ্যে এমএসএফ, মুসলিম এইড এবং এসিএফ সম্পর্কে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এ কারণেই তাদের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসে কাউকে অবৈধ তৎপরতা চালানোর সুযোগ সরকার দেবে না। এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক নূরন্নবী তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, এমএসএফ, মুসলিম এইড এবং এসিএফের যে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন নেই, সেগুলো তারা চালাতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.