বনানীতে দেশি-বিদেশি ইফতারি

Spread the love

শরিফুল হাসান

বনানীর ১১ নম্বর সড়কের প্লাটিনাম হোটেলে সাজানো রকমারি ইফতারি থেকে পছন্দের খাবার প্লেটে তুলে নিচ্ছেন কয়েকজন ক্রেতা। গতকালের ছবি l প্রথম আলো
বনানীর ১১ নম্বর সড়কের প্লাটিনাম হোটেলে সাজানো রকমারি ইফতারি থেকে পছন্দের খাবার প্লেটে তুলে নিচ্ছেন কয়েকজন ক্রেতা। গতকালের ছবি l প্রথম আলো

খেজুর, আপেল, বেগুনি, আলুর চপের মতো প্রচলিত খাবার থেকে শুরু করে চিকেন সাসলিক, ফলের সালাদ, পাস্তা সালাদ, ভাত, মাংস, মাছ, সবজি, মেক্সিকান খাবার, থাই খাবার—কী নেই ইফতারে! খেতে খেতে হয়তো দেখা হয়ে যেতে পারে কোনো ক্রিকেটারের সঙ্গেও। কারণ, এটি যে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের রেস্তোরাঁ।
রাজধানীর বনানীর ১১ নম্বরে ক্রিকেটার সাকিবের এই রেস্তোরাঁর নাম ‘সাকিবস ডাইন’। ইফতারের মতো সাহরির ব্যবস্থাও আছে এখানে। সাকিব নিজে এখানে দুদিন সাহরি করেছেন। সঙ্গে ছিলেন নাসির, তাসকিনেরাও। কাজেই কোনো দিন সাহরি বা ইফতার করতে এসে পেয়ে যেতে পারেন তাঁদেরও।
পরিবার নিয়ে গতকাল শুক্রবার এই রেস্তোরাঁয় ইফতার করতে এসেছিলেন সেনা কর্মকর্তা মুক্তাদির। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই তো বাসায় ইফতার করি। ছুটির দিনে সবাই মিলে বাইরে ইফতার করতে এসেছি। ভালোই লাগছে পরিবেশটা। সময় নিয়ে গল্প করা যাচ্ছে। খাওয়াও যাচ্ছে।’
সাকিবস ডাইনের ব্যবস্থাপক কে এম আলী হোসেইন বললেন, ‘দোতলায় আমাদের রেস্তোরাঁটি মূলত তরুণদের জন্য। এখানে একটি স্পোর্টস লাউঞ্জ আছে। ফাস্টফুড ও মেক্সিকান—সব খাবার পাওয়া যাবে ৩৯০ টাকায়। আর তিনতলায় পরিবারসহ ইফতার-সাহরি করতে পারেন। এ জন্য ভ্যাটসহ খরচ ৮৪৪ টাকা। ২৫ থেকে ৩০ রকমের খাবার মিলবে এখানে।’
বনানীর ১১ নম্বর সড়কে সাহরি ও ইফতারের জন্য এমন ৩০-৩৫টি রেস্টুরেন্ট পাওয়া যাবে। এগুলোতে যেমন নির্ধারিত খাবার রয়েছে, তেমনি রয়েছে বুফে। ইফতার থেকে শুরু করে এক বসায় রাতের খাবার—সবই এখানে পাওয়া যায়। গতকাল বিকেলে গিয়ে দেখা গেল, প্রতিটি রেস্তোরাঁতেই মানুষের ভিড়। বিক্রেতারা বললেন, এখানকার ক্রেতারা প্রচলিত ইফতারির পাশাপাশি বিদেশি খাবার পছন্দ করেন।
সাকিবস ডাইনের পাশেই প্লাটিনাম হোটেল। সেখানেও বেশ ভিড়। লোকজন সারিতে দাঁড়িয়ে পছন্দের সব খাবার নিচ্ছেন। নানা ধরনের ফল থেকে শুরু করে পাকোড়া, ফিরনি, মাংসের নানা পদ, গাজরের হালুয়া, আস্ত মুরগি, তন্দুরি—সবই আছে এখানে। বাবা-মা-ভাই-বোন সবার সঙ্গে ধানমন্ডি থেকে এখানে ইফতার করতে এসেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের ছাত্র মিরাজুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছুটির দিন বলে পরিবারের সবাই এসেছেন।
প্লাটিনাম হোটেলের ইনচার্জ সাইফুর আল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের রেস্টুরেন্টের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, আমরা স্বাস্থ্যকর খাবারে মনোযোগ দিই। সন্ধ্যায় বুফে ইফতার করতে এসে রাতের খাবার খেয়ে ফিরতে পারবেন।’
রসনা বিলাসের সামনে গিয়ে দেখা গেল, লোকজন ইফতারির জন্য হালিম, দইবড়া, কাবাব, সাসলিক, জিলাপি, মোগলাইসহ নানা খাবার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রসনা বিলাসের ব্যবস্থাপক কাওসার আহমেদ বলেন, তাঁরা ৫২ ধরনের ইফতারি বিক্রি করছেন। তবে ১১ নম্বর সড়কের বিভিন্ন জায়গায় কাটাকাটি হচ্ছে। ফলে লোকজনের খুব দুর্ভোগ হচ্ছে।
১১ নম্বর সড়কে এশিয়ান বৃস্ত, এন্ট্রো, পিজা ইন, সাজনা, খাজনা মিঠাইসহ অনেক খাবারের দোকান রয়েছে। প্রতিটিতেই ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।
বনানী এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বশিরউদ্দিন বললেন, আগে তাঁরা শুধু পুরান ঢাকার ইফতারির বাজারের কথা জানতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বনানী ১১ নম্বর সড়কে ইফতারের বাজার বেশ জমে উঠেছে, সঙ্গে সাহরিও। তবে ১১ নম্বর সড়কের যে অবস্থা, তাতে এখানে চলাফেরাই কষ্টকর।
বনানী ১১ নম্বর সড়কে যেমন অভিজাত মানুষের জন্য নামীদামি সব রেস্তোরাঁ আছে, তেমনি বনানী বাজারের কাছেই জমে উঠেছে সাধারণ মানুষের ইফতারির বাজার। সাধ আর সাধ্য—দুটোই যাঁদের এক হয় না, সেই স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে অনেকেই এখান থেকে ইফতারি কিনছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.