বাংলাদেশিদের ভোটার করার খবরে মালয়েশিয়ায় তোলপাড়
শরিফুল হাসান
মালয়েশিয়ায় সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার করা হবে—পত্রিকার এমন খবরে মালয়েশিয়ায় তোলপাড় চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এ নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করছে।মালয়েশিয়া সরকার খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন বলেছে, অসৎ উদ্দেশ্যে এ ধরনের খবর প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর কথিত ওয়েবসাইটের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা খবরটিকে ব্যুরোও ভিত্তিহীন বলেছে। ব্যুরো বলেছে, ওই ওয়েবসাইটটি ভুয়া, তাদের ওয়েবসাইটে এমন কিছু ছিল না।প্রকৃত পক্ষেও ব্যুরোর ওয়েবসাইটে এমন কিছু পাওয়া যায়নি।মালয়েশিয়ার মালয় ভাষার একটি দৈনিকে গত শুক্রবার প্রথম এ খবর প্রকাশিত হয়। ওই খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের মে মাসে মালয়েশিয়া সফরকালে কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী নাজিব বিন তুন আবদুল রাজাকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে নাজিব আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়টি তিনি আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবেন। এখন জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকারের কাছ থেকে নাগরিকত্বের চেয়েও বেশি পেয়েছেন বাংলাদেশিরা। প্রকৃতপক্ষে এখন তাঁদের মালয়েশিয়ার আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ভোটার হওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ান ইনসাইডার, মিলোসাম ব্লগপোস্টসহ বেশ কয়েকটি ব্লগেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়। মালয়েশিয়ার বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক স্টার অনলাইন ও অনলাইন পত্রিকা মালয়েশিয়া কিনি কয়েক দিন ধরে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করছে। এ নিয়ে বিরোধী দলগুলো সরকারের কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে জিততে এসব করছে। ওই খবরে মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিব্রত। তাঁদের আশঙ্কা, কেউ হয়তো এনজিও ব্যুরোর ওয়েবসাইট নকল করেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশিদের সঙ্গে মালয়েশীয়দের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।গত সোমবার স্টার অনলাইন-এ প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধী দলের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার বিনিময়ে কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে—এমন খবর ভিত্তিহীন।বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সোমবার মালয়েশিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই খবরের প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এ কে এম আতিকুর রহমান সোমবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যখন বৈধ করার কাজ চলছে, তখন এমন একটি কাজ করা হয়েছে। অসৎ উদ্দেশ্য থেকেই এটি করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কখনোই এ ধরনের কোনো কথা বলেননি।’আতিকুর রহমান বলেন, ‘হাইকমিশন থেকে এ ব্যাপারে সব গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা পাঠানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই।’ব্যুরোর মুখপাত্র ও উপপরিচালক এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এটি একেবারেই ভুয়া খবর।’ব্যুরোর মহাপরিচালক নূরুন নবী তালুকদার গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যুরোর ওয়েবসাইটে এমন কোনো কিছু কখনোই ছিল না। আমরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেও জানিয়েছি। অসৎ উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে।’



