জমি ইজারা নিতে আজ চুক্তি
শরিফুল হাসান
আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় জমি ইজারা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য দেশটিতে ৩০ হাজার হেক্টর জমি ইজারা নিতে আজ বৃহস্পতিবার চুক্তি করছে বাংলাদেশের বেসরকারি কৃষিবিষয়ক পরামর্শক-প্রতিষ্ঠান ভাটি বাংলা এগ্রিটেক। এ চুক্তি হচ্ছে তানজানিয়া এগ্রিকালচার পার্টনারশিপ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে।ভাটি বাংলার অন্যতম পরিচালক মোহাম্মদ দুলাল ব্যাপারি গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানান।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, আগামী দুই বছরের মধ্যে আফ্রিকার ছয়টি দেশে মোট ছয় লাখ হেক্টরের বেশি জমি ইজারা নেবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সেখানে ১০ লাখেরও বেশি শ্রমিকের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।ভাটি বাংলার পরিচালক দুলাল ব্যাপারি বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যানসহ একটি প্রতিনিধিদল এখন তানজানিয়ায় আছে এবং বৃহস্পতিবার জমি ইজারার চুক্তি হবে।’ তিনি বলেন, তানজানিয়ায় চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিকের অন্তত ৭০ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার বিষয়ও চুক্তিতে থাকছে। বীজও নেওয়া হবে বাংলাদেশ থেকে। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লাভের ১০ শতাংশ তানজানিয়া সরকারকে দিতে হবে। বাকি ফসল বাংলাদেশ সরকার চাইলে কিনে আনতে পারবে।দুলাল ব্যাপারি জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পর জুনের প্রথম সপ্তাহে চাষাবাদ শুরু হবে। প্রথম দিকে বিআর-২৮ ও ২৯ জাতের ধান চাষ করা হবে। এরপর ভুট্টা, ডালচাষ এবং পর্যায়ক্রমে মৎস্য ও ডেইরি ফার্ম করার পরিকল্পনাও রয়েছে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য অন্য কোনো দেশে বিক্রি করতে বা বাংলাদেশে আনতে বাধা থাকবে না। এ ছাড়া প্রতি পাঁচ হেক্টর জমির জন্য আফ্রিকার একজন ও বাংলাদেশি একজন শ্রমিককে কাজে লাগানোর কথা চুক্তিতে উল্লেখ থাকবে। তিনি বলেন, ওই সব দেশে প্রতি হেক্টর জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া হচ্ছে বার্ষিক হেক্টরপ্রতি ১৩৫ থেকে ১৫০ টাকায়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আফ্রিকার দেশগুলোতে ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো জমি নেই। সরকার থেকে জমি ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র সেখানে একইভাবে চাষাবাদ করছে।সূত্র আরও জানায়, গত বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘ফ্যাক্টফাইন্ডিং আফ্রিকা মিশন’ ওই মহাদেশের চাষ উপযোগী জমির সন্ধান পায়। এর মধ্যে জাম্বিয়ায় দুই লাখ ৫০ হাজার হেক্টর, মোজাম্বিকে দুই লাখ ৫০ হাজার হেক্টর, কেনিয়ায় ৫০ হাজার হেক্টর, ঘানায় ৫০ হাজার হেক্টর, তানজানিয়ায় ৩০ হাজার হেক্টর এবং উগান্ডায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক ওয়াহিদুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, আফ্রিকায় জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার বিষয়টি সরকার ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ‘জি টু জি’ (সরকারের সঙ্গে সরকারের) চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলেও জমি ইজারা নিয়ে চাষ করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ফলে যখন বাংলাদেশের চালের দরকার পড়বে, তখন সরকার কিংবা স্থানীয় উদ্যোক্তারা তা কিনে নেবে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বাংলাদেশের খাদ্য ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে এই ব্যবস্থা। তানজানিয়ার পর কেনিয়া, উগান্ডা, জাম্বিয়া, সেনেগাল, লাইবেরিয়া এবং ঘানার কয়েক লাখ হেক্টর জমিতে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে চাষাবাদ করতে যাবে।আফ্রিকায় চাষাবাদ করে লাভ হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দুলাল ব্যাপারি বলেন, বাংলাদেশে এক বিঘা জমির বছরে ভাড়া চার হাজার টাকার মতো। তানজানিয়ায় সমপরিমাণ জমির ভাড়া মাত্র ২০ টাকা। কৃষিজমির ভাড়ার এই বিপুল তারতম্যের কারণেই লাভের পরিমাণ অনেক বাড়বে।



