মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি

Spread the love

উৎস দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ, কমবে খরচ ও হয়রানি

শরিফুল হাসান

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানির উৎস দেশ (সোর্স কানট্রি) হিসেবে বাংলাদেশের অনুমোদনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় আশা করছে, খুব শিগগিরই বাংলাদেশ এ অনুমোদন পাবে। এর ফলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয় কমার পাশাপাশি হয়রানিও অনেক কমে যাবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় প্রচুর বিদেশি শ্রমিক দরকার হয়। এ জন্য তারা তালিকাভুক্ত উৎস দেশ থেকে সরাসরি লোক নিতে পারে। বাংলাদেশ এর বাইরে থাকায় চাহিদাপত্র, কলিং ভিসা ইত্যাদি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লোক পাঠাতে হয়। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ সচিব জাফর আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ উৎস দেশ হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে। এ নিয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনাও হয়েছে। খুব দ্রুত বাংলাদেশ উৎস দেশের অনুমোদন পেয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি। সেটি হলে মালয়েশিয়ায় চাহিদার বিপরীতে কম খরচে নিয়মিত শ্রমিক পাঠানো যাবে।’ বর্তমানে ১৩টি দেশ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে উৎস দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল ইতিমধ্যেই উৎস দেশের অনুমোদন পেলেও বাংলাদেশ এ সুবিধা পায়নি। ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির উৎস দেশ। মালয়েশিয়ায় প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। তবে চাহিদার অতিরিক্ত লোক পাঠানোর কারণে ২০০৯ সালের মার্চে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মালয়েশিয়া। এরপর সরকারের কয়েক দফা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তারা আর বাংলাদেশের জন্য বাজার চালু করেনি। তবে খুব শিগগিরই মালয়েশিয়া আবার বাংলাদেশ থেকে লোক নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মাসে দেশটি বাংলাদেশ থেকে ছয় হাজার মৎস্যজীবী নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উৎস দেশের অনুমোদন, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে প্রবাসীকল্যাণ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ মাসের শুরুতে মালয়েশিয়া সফর করেন। সেখানে তারা মালয়েশিয়া সরকারের স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, মানবসম্পদ ও কৃষিসচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, বর্তমান শ্রমিকদের অবস্থা, উৎস দেশ হিসেবে অনুমোদন এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জাফর আহমেদ খান বলেন, প্রতারণা ঠেকাতে মালয়েশিয়া সংগঠিত উপায়ে শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে জোর দিয়েছে। বাংলাদেশও এ ব্যাপারে অত্যন্ত তৎপর। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরই কেবল শ্রমিক পাঠানো হবে। চাহিদার বিপরীতে বেশি শ্রমিক যাতে পাঠাতে না পারে সে জন্য রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হবে। প্রতিনিধিদলের আরেক সদস্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইতিবাচক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাপারে কিছু ভুল ধারণা ছিল মালয়েশিয়ার। আমরা সেই ভুলগুলো ভাঙিয়ে দিয়েছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.