ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু
শরিফুল হাসান
বরিশালের চর কাউয়ায় আগুন লাগানোর ঘটনার ছয় দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ১৫ হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরের ভস্মীভূত ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে রোভার স্কাউটের সদস্যরা মিলে এই কাজ শুরু করেছেন।
বরিশাল জেলা প্রশাসন বলছে, ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজটি যেন দ্রুত শেষ করা যায়, সে জন্যই স্কাউট সদস্যদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। এটি শেষ হলেই নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিজের ভিটায় ফিরতে না পারা পরিবারগুলোকে এখনো প্রতিবেশীর বাড়িতে রাত কাটাতে হচ্ছে। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তারা। আজ শুক্রবার সকালে চর কাউয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করেছে বরিশালের নাগরিক সমাজ।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে এবং আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’
গতকাল সকালে চর কাউয়ার কালীখোলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মিলে বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন রোভার স্কাউটের আটজন সদস্য। এঁদের একজন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের ছাত্র জেলা রোভার স্কাউটের সদস্য হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এসেই ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজে যোগ দিয়েছি। জেলা প্রশাসন যত দিন চাইবে আমরা তত দিনই এখানে কাজ করব।’ রোভার স্কাউটদের এই দলের নেতা আল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সব সময় দুর্গত মানুষের পাশে থাকতে চাই।’
আগুনে সর্বস্ব হারানো বীথি রানী বলেন, গত ছয় দিন পাশের বাড়িতেই কাটাতে হয়েছে। কিছু টিন, কাপড় ও নগদ অর্থ পেলেও ঘর তোলার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই।
দীনেশ চন্দ্র হালদার বলেন, ‘গুছগাছ করা শুরু করছি। তয় ঘর তোলার মতো টাহা-পয়সা নাই।’ একই কথা জানান শ্যামল হালদার, কৃষ্ণ হালদারসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা।
জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম বলেন, পরিবারগুলো যেন দ্রুত ঘর তুলে নিজের ভিটায় ফিরতে পারেন, সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সম্প্রীতি সমাবেশ: চর কাউয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় একটি সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করেছে বরিশালের নাগরিক সমাজ। বরিশালের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, ‘বরিশাল সদরে এর আগে কখনো সাম্প্রদায়িক কোনো সহিংসতা ঘটেনি। আমরা এখনো চাই সবাই মিলে শান্তিতে বাস করতে। সে কারণেই এই সম্প্রীতি সমাবেশ।



