সিটি করপোরেশন নির্বাচন

Spread the love

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা

শরিফুল হাসান 


সেলিনা হায়াত আইভী বন্দরে। শামীম ওসমান সিদ্ধিরগঞ্জে।নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আলোচিত এই দুই মেয়র প্রার্থী গতকাল মঙ্গলবার সারা দিন ব্যস্ত ছিলেন জনসংযোগে। ছুটেছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি; চেয়েছেন ভোট।তবে শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন দলীয় সমর্থন—আইভী না শামীম ওসমান? নাকি কেউ সমর্থন পাবেন না। তাহলে কি আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীই লড়াই করবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ। কারণ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আজ শেষ দিন।আইভীর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দোয়া নিয়ে এসেছেন আইভী। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরবেন না। আর শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, তাঁরা এখনো দলীয় মনোনয়নের আশায় বসে আছেন।শুধু শামীম ওসমান ও আইভীই নন—মেয়র পদে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারও গতকাল ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন গণসংযোগ করে।প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দোয়া নিয়েছি: মেয়র পদপ্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী গতকাল বন্দরের ধামগড়, ইস্পাহানি বাজার, মন্দিরপাড়া, ঢাকেশ্বরী বাজার, কুড়িপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সারা দিন জনসংযোগ করেন। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চান এবং বলেন, অতীতের মতোই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি লড়বেন, চালিয়ে যাবেন উন্নয়ন। এ সময় আইভীর সঙ্গে ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম আরাফাত ও বন্দর থানা ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মিয়া বাবু। জনসংযোগের আগে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইভী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কী কথা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। নির্বাচন করতে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দোয়া নিতে গিয়েছিলাম। তিনি দোয়া দিয়েছেন। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে আইভীর কোনো বিকল্প নেই। তাই তিনি নির্বাচন করবেন এবং জয়ী হবেন।বন্দর এলাকা ছাড়াও আইভীর পক্ষে কাল শহরে গণসংযোগ করেন আনোয়ার হোসেন। সিদ্ধিরগঞ্জে গণসংযোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির।শামীমের প্রচারণা: শামীম ওসমান গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জের অজিবপুর, সর্দারপাড়া, রেললাইন, ওয়াপদা কলোনি, আটিসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনিও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, প্রচার সম্পাদক তাজিম বাবু প্রমুখ।একপর্যায়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শামীম ওসমান। দল শেষ পর্যন্ত কাকে সমর্থন দেবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত কী হয়েছে তা এখন বলব না। সিদ্ধান্ত ছাড়া আমি মাঠে নামিনি। তবে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকবে না। আমরা যেহেতু নেত্রীকে ভালোবাসি, তাই দলের সিদ্ধান্ত অবশ্যই মেনে নেব। আর দলের বাইরে গিয়ে যদি কেউ নির্বাচন করেন, তাহলে জনগণ তাঁকে গ্রহণ করবে না।’বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আপনারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমরা দলের কর্মী হিসেবে তাঁর কাছে গিয়েছিলাম। নির্বাচনের বিষয় নিয়ে কোনো কথা হয়নি। আর আমরা যে সেখানে গিয়েছি, সেটি তো কেউ দেখেনি। তাই আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্নই আসে না। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী যে তাঁর নেত্রীর সঙ্গে এক মঞ্চে, সেটি কি কেউ দেখে না!’আশাবাদী তৈমুর: আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় বিএনপি সুবিধা পাবে, এমন আশা নিয়ে জোর প্রচারে নেমেছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। গতকাল তিনি শহরের বাবুরাইল, দেওভোগ, গলাচিপা, মাসদাইর এবং বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আনোয়ার হোসেন খান, এ টি এম কামাল, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ। তৈমুর আলম প্রথম অলোকে বলেন, ‘কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছে, আমরা নাকি মাঠে থাকব না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরাই নির্বাচনের মাঠে থাকব। কারণ আওয়ামী লীগের দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে।’নাসিম ওসমানকে সতর্ক করে চিঠি: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় শামীম ওসমানের বড় ভাই ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ নাসিম ওসমানকে সোমবার রাতে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফুর রহমান এ চিঠি দেন।চিঠিতে বলা হয়, ‘৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে আপনি উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং একজন প্রার্থীর বিষয়ে সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। স্থানীয় সাংসদ হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনে আপনার সহযোগিতা কামনা করছি।’এর আগে ১ অক্টোবর নাসিম ওসমানকে প্রথম সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়।সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি নাগরিক কমিটির: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন, প্রশাসনে রদবদল, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার ও ইভিএম বন্ধের দাবি জানিয়েছে নাগরিক কমিটি। গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। সংগঠনের সভাপতি এ বি সিদ্দিক, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এ ওয়াই এম হাসমত উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সানোয়ার তালুকদার প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সিসি ক্যামেরা: নির্বাচনের ২০টি কেন্দ্রে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফুর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২০ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া জিয়া হলে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হবে। সেখানেও সিসি ক্যামেরা থাকবে।ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ: আপিল করার পর কাউন্সিলর পদে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন: ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম এ হালিম, ৩ নম্বরের মোহাম্মদ মাসুদ, ৯ নম্বরের শামসুল আলম, ১৩ নম্বরের শাহ ফয়জুল্লাহ ও মনিরুজ্জামান ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেন। নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই করে ৩১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। এর মধ্যে ২৬ জন আপিল করেন। আপিল আবেদনের শুনানি শেষে এই ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।এ ছাড়া এ পর্যন্ত কাউন্সিলর পদে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাঁরা হচ্ছেন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মনজুর হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ হোসেন ও ইয়াকুব আলী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.