সমস্যার সমাধানে যাচ্ছে প্রতিনিধিদল

Spread the love

লিবিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি কমছে, নানা কারণে সৃষ্টি হয়েছে সংকট

শরিফুল হাসান

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বড় বাজার লিবিয়ায় হঠাত্ করে শ্রমিক রপ্তানি কমে গেছে। বিশ্বমন্দার কারণে ২০০৯ সালে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েতসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে যখন সংকট ছিল, তখন বাংলাদেশের একটি বড় বাজার ছিল লিবিয়া। কিন্তু জাল ভিসা, প্রতারণাসহ নানা কারণে সেখানে শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সম্প্রতি সংকট সৃষ্টি হয়েছে।প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, এসব সমস্যার সমাধানসহ লিবিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার ধরে রাখতে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ সোমবার চার দিনের সফরে লিবিয়া যাচ্ছে। দলটি লিবিয়ার পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, শ্রম, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত্ করবে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক কাজী মফিজুর রহমান, গবেষক সুলতানুল আজিম এই দলে আছেন।বিএমইটির মহাপরিচালক গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, এই সফরে লিবিয়ার শ্রমমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বিশেষ করে লিবিয়ায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে। সফরের মূল লক্ষ্য থাকবে লিবিয়ার বাজার ধরে রাখা এবং আরও সুসংহত করা।বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় বর্তমানে ৮৩ হাজার বাংলাদেশি আছে। ১৯৭৬ সালে লিবিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি শুরু হওয়ার পর প্রতিবছর গড়ে দুই থেকে তিন হাজার শ্রমিক দেশটিতে গেছেন। কিন্তু ২০০৯ সালে সেখানে গেছেন ২২ হাজার ৭৪২ জন কর্মী।বিএমইটি ও বায়রা সূত্র জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে লিবিয়ায় ২০০৯ সালে একযোগে উন্নয়ন ও পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়। সেখানে নতুন নতুন রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাহিদা সৃষ্টি হয়। এখনো সেখানে অনেক শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে।লিবিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস সূত্র জানায়, দেশটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ভালো হলেও কয়েকটি অসাধু জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জাল ভিসায় সেখানে লোক পাঠাচ্ছে। লিবিয়ার পুলিশ কয়েক দফায় এমন দুই শতাধিক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে ফেরত পাঠিয়েছে। এ ছাড়া লিবিয়াপ্রবাসী কিছু বাংলাদেশি ভুয়া কোম্পানির নামে লোক নিচ্ছে। আবার অনেকেই ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে সেখানে থেকে যাচ্ছেন। কাজের অনুমতিপত্র না থাকায় তাঁরা কাজ পাননি। তাঁদের অনেকে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন।লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক একজন কর্মকর্তা জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকায় কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে না পারলে লিবিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বাস্তবেও তাই হয়েছে। লিবিয়া বাংলাদেশ থেকে লোক নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে তিন হাজার ৭৭৯ জন বাংলাদেশি লিবিয়ায় গেলেও ডিসেম্বরে গেছেন এক হাজার ৫৯৩ জন। বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া লোক নেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।বায়রার সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, লিবিয়া এখন বাংলাদেশের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এই বাজারটি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কারণেই মন্ত্রীর নেতৃত্বে তাঁরা লিবিয়ায় যাচ্ছেন। তাঁরা সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলবেন। জাল ও ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে থেকে যাওয়া, কিছু প্রবাসীর কারণে অস্তিত্বহীন কোম্পানিতে শ্রমিক পাঠানো—এসব কারণে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিনিধিদল এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলবে। আশা করা যায়, এই সফরের পর ইতিবাচক ফল আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.