বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লি.

Spread the love

অবশেষে পদ সৃষ্টি হলো, কিন্তু তাঁরা পদোন্নতি পেলেন না

শরিফুল হাসান


তাঁরা চারজন ১০ বছর ধরে ব্যবস্থাপক পদে চাকরি করেছেন। বার্ষিক প্রতিবেদন (এসিআর) ও যোগ্যতায় তাঁদের অবস্থান শুরুতে। তার ওপর সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও পদোন্নতি পাচ্ছিলেন না; কারণ পদ নেই। অবশেষে পদ সৃষ্টি হলো। কিন্তু জ্যেষ্ঠ তালিকায় থাকা ওই চারজনকে বাদ দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হলো তাঁদের অধস্তনদের। পেট্রোবাংলার অধীন বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডে (বিজিএফসিএল) এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করে এই চার কর্মকর্তা বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা হলেন: ব্যবস্থাপক (সংস্থাপন) মোজাম্মেল হক, ব্যবস্থাপক (সমন্বয়) মুস্তাফিজুর রহমান ও ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মঈনুল ইসলাম। ব্যবস্থাপক (পরিবেশ প্রকৌশল) আবদুল মালেক কারিগরি ক্যাডারে পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন।বিজিএফসিএলের ২২ জন ব্যবস্থাপকের জ্যেষ্ঠতার একটি তালিকা করা হয় গত বছরের ২২ অক্টোবর। ওই তালিকায় দেখা গেছে, প্রথম চার কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়ে গেছে এবং পঞ্চমজন অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে (এলপিআর) গেছেন। এই ২২ জনের মধ্যে চাকরির শর্ত এবং অন্যান্য সব যোগ্যতায় মোট ১১ জন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদের যোগ্য হন। এর মধ্যে প্রথম মোজাম্মেল হক, দ্বিতীয় মুস্তাফিজুর রহমান এবং তৃতীয় মঈনুল ইসলাম। তাঁরা সবাই ১০ বছর ধরে ব্যবস্থাপক পদে আছেন।কিন্তু এই তিনজনের কাউকেই পদোন্নতি না দিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা সঞ্জীব কুমার নাথ, নবম আশিকুল ইসলাম এবং একাদশ অবস্থানের এ টি এম শাহ আলমকে গত ২৩ ডিসেম্বর ডিজিএম পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতি পাওয়া তিনজনই বর্তমান পদে আগের তিনজনের চেয়ে ছয় বছরের কনিষ্ঠ।একইভাবে কারিগরি ক্যাডারের প্রথম স্থানে থাকা আবদুল মালেককে পদোন্নতি না দিয়ে দ্বিতীয় আবু তালেবকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ৩ জানুয়ারি পদোন্নতির এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছয়-সাত বছর ধরে প্রতিবছরই পদোন্নতির তালিকায় আমাদের অবস্থান ছিল সবার আগে। কিন্তু পদ না থাকায় এত দিন পদোন্নতি হয়নি। অবশেষে ১০ ডিসেম্বর কোম্পানির নতুন জনবলকাঠামো হলো। পদ সৃষ্টি হলো। এক দশক পর আমরা আশাবাদী হয়ে উঠলাম। কিন্তু আমাদের বাদ দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হলো কনিষ্ঠদের, যাঁরা আমাদের অধীনে চাকরি করেছেন। সারা জীবন সত্ভাবে চাকরি করা একজন কর্মকর্তার জীবনে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে?’মুস্তাফিজুর রহমান, মঈনুল ইসলাম ও আবদুল মালেক বলেন, তাঁদের সবার এসিআর কাটছাঁট করে নম্বর কমানো হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনার ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, ‘পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা দেখা করেছি। তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। বিচার না পেলে আমরা আদালতে যাব।’বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়নি। কর্মকর্তাদের সার্বিক নৈপুণ্য দেখে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এতে দু-একজন বঞ্চিত হতেই পারেন। তাঁদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি দেখা হবে।পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগে বলেছেন, কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর কবিরের মাধ্যমে অর্থ বিনিময়ের মাধ্যমে এই অনিয়ম করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ব্যবস্থাপক মুজিবুর রহমান প্রতিটি পদের জন্য ১০ লাখ টাকা নিয়ে এই অনিয়ম করেছেন। কয়েকজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মুজিবুরের চাচাতো ভাই বিজিএফসিএলের সিবিএ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক তাঁর বন্ধু। ফলে তিনি যাচ্ছেতাই করছেন।অভিযোগ অস্বীকার করে মুজিবুর রহমান বলেন, কোম্পানির নিয়মকানুন মেনেই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কনিষ্ঠ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেতেই পারেন। আগের প্রতিটি বছরই এ কর্মকর্তারা পদোন্নতির তালিকায় থাকলেও এবার নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবছরই নতুন তালিকা করা হয়।বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেছেন, বিজিএফসিএলের পদোন্নতির যে নীতিমালা রয়েছে তাতে বলা আছে, কোনো পদে পদোন্নতির জন্য যাঁরা যোগ্য বিবেচিত হবেন তাঁদের মধ্য থেকেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হবে। এখানে অন্য কোনো বিষয় মুখ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.