নতুন চাহিদাপত্র নেই, জর্ডানে শ্রমবাজার বন্ধের আশঙ্কা

Spread the love

শরিফুল হাসান

বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার জর্ডানে কর্মী পাঠানো নিয়ে শঙ্কা শুরু হয়েছে। নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের ৫০০ চাহিদাপত্র বাতিল করেছে দেশটি। নতুন করে আর কোনো চাহিদাপত্র পাঠাচ্ছেও না। দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।জনশক্তি রপ্তানিকারক সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসল) কর্মকর্তারা বলছেন, কিছুদিন আগে আইন ভেঙে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা বিক্ষোভ-ভাঙচুর করায় জর্ডান এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, এখনো কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি জর্ডান। তাই সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।২০০২ সালে প্রথম জর্ডানে লোক পাঠানো শুরু করে বাংলাদেশ। মাত্র ১০ হাজার টাকা অভিবাসন খরচ, ভালো বেতন ও উন্নত কাজের পরিবেশের কারণে খুব দ্রুত বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত শ্রমবাজার হয়ে উঠেছিল জর্ডান। বিশেষ করে বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের জর্ডানের পোশাক কারখানাগুলোতে অনেক বেশি কাজের সুযোগ মিলছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা বিক্ষোভ-মিছিল ও ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়লে ভাবমূর্তির সংকট শুরু হয়।দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বেতন বাড়িয়ে ১১০ জর্ডানি দিনার (১১ হাজার টাকা) থেকে ১৫০ দিনার করার দাবিতে দুই হাজার বাংলাদেশিসহ জর্ডানে কর্মরত এশিয়ার অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক গত জুন মাসে বিক্ষোভ করেন। তখন ওই ঘটনার সমাধান হলেও গত অক্টোবর মাসে মেরিট্রেন্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন বাংলাদেশিরা। এ কারণে ইতিমধ্যে ওই কোম্পানির ৩০০ বাংলাদেশি শ্রমিককে ফেরত পাঠিয়েছে জর্ডান। ফিরতে হবে আরও ২৫০ জনকে।বোয়েসল সূত্র জানায়, গত এক বছরে পাঁচ হাজার কর্মী চাকরি নিয়ে জর্ডানে গেছেন। কয়েক মাস ধরে প্রতি মাসে গড়ে ৫০০ কর্মী জর্ডানে যাচ্ছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসেও ৪৪৭ জন গেছেন। কিন্তু বিক্ষোভ-ভাঙচুরের পর অক্টোবর মাসে মাত্র ৭৭ জন কর্মী গেছেন।জানতে চাইলে বোয়েসলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মী পাঠিয়েছি দেশটিতে। আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছিল। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের একটি বিশাল বাজার হয়ে উঠছিল জর্ডান। কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। ইতিমধ্যে তারা ৫০০ চাহিদাপত্র বাতিল ও নতুন ভিসা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।’কারা বিক্ষোভ করেছেন জানতে চাইলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব লোক সেখানে থাকতেন, তাঁরাই এর নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৬ সালে একবার শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে জর্ডান বাংলাদেশ থেকে লোক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) লুবনা ইয়াসমিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মেরিট্রেন্ডের কর্মীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, শ্রমিক ধর্মঘট এখানে অপরাধ বলে বিবেচিত। তাই অন্য কোনো কোম্পানিতে তাঁদের বদলি করা যাবে না। তাই ওই শ্রমিকদের ফিরতে হয়েছে। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। দুই দেশের সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কাজও শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.