শরিফুল হাসান
সন্ত্রাসী হামলায় একের পর এক বাংলাদেশি খুন হচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। এর মধ্যে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে চার দিনেই পাঁচ বাংলাদেশি খুন হয়েছেন। এ ছাড়া গত ১০ মাসে অন্তত ৫০ জন বাংলাদেশি খুন হয়েছেন। দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বাড়িতেও ডাকাতি হয়েছে।
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, গত পৌনে পাঁচ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৩০০ জনের লাশ এসেছে, যাঁদের অধিকাংশই খুন হয়েছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেছেন, খুন হচ্ছেন মূলত দোকানমালিক ও ব্যবসায়ী। ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হামলায় এসব খুনের ঘটনা ঘটছে। প্রবাসীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে আছেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আবদুল হালিম, আজিজ আহমেদ ও নাছির আহমেদসহ আরও কয়েকজন।
প্রবাসীরা বলছেন, অধিকাংশ দোকানিই এখানে পুরোপুরি বৈধ নন। ফলে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে নেই। এ কারণে নিজেদের কাছেই তাঁরা নগদ টাকা রাখেন। আর ওই টাকা ছিনিয়ে নিতেই এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. তৌহিদ হোসেন টেলিফোনে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শনিবারও একজন বাংলাদেশি খুন হয়েছেন’। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত বাঙালিদের কাছে নগদ টাকা থাকে। আর সেই টাকার জন্যই হামলা কিংবা খুনের ঘটনা ঘটে। প্রতিকার চেয়ে আমরা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দিয়েছি।’
প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৩০ অক্টোবর মধ্যরাতে রাস্টেনবার্গ শহরের মোকাশি এলাকায় দুই দোকানমালিক সোহরাব হোসেন ও ইকবাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। তাঁদের দুজনের বাড়ি ফেনীতে। এর এক দিন আগে পোর্ট এলিজাবেথে জসিম খান নামের আরেক বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এর মাত্র তিন দিন আগে জোহানেসবার্গে সোওতো এলাকায় মোহাম্মদ গোলাম ফারুক ও সেলিম দেওয়ান নামে দুই বাংলাদেশি দোকানমালিককে হত্যা করা হয়।
প্রবাসীরা জানান, মাস দুয়েক আগে গোলাম ফারুক ও সেলিম দেওয়ানের দোকানে ডাকাতির চেষ্টা করা হয় এবং তারা অপরাধীদের চিনে পুলিশকে জানান। এরপর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনার পর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।
১৯ অক্টোবর গাওটেং প্রদেশে রফিক ইসলাম নামের আরেক বাংলাদেশিকে খুন করা হয়। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহে। আট মাস আগে তাঁর দোকানে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালিয়েছিল। তখন জনতা দুই ডাকাতকে হত্যা করে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন রফিক।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৬৬ জন বাংলাদেশির লাশ এসেছে। এ ছাড়া ২০১২ সালে ৮৪ জন, ২০১১ সালে ৫৮ জন, ২০১০ সালে ৪৯ জন বাংলাদেশির লাশ এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। এঁদের অধিকাংশই খুন হয়েছেন।



