দেশে ফেরার দাবিতে লিবিয়ার পুলিশ স্টেশনে ১৯৭ বাংলাদেশি

Spread the love

শরিফুল হাসান

দেশে ফেরার দাবি জানিয়ে লিবিয়ার একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন ১৯৭ বাংলাদেশি। তাঁদের অভিযোগ, যে কোম্পানিতে তাঁরা চাকরি করতেন, সেখানে তাঁদের নির্যাতন করা হতো। তাঁরা ওই কোম্পানি থেকে পালিয়ে এসেছেন। এখন তাঁরা দেশে ফিরতে চান।লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলেছেন, চার দিন ধরে শ্রমিকেরা পুলিশ স্টেশনের সামনে আছেন। কোম্পানির কাছে যে ক্যাম্পে তাঁরা থাকতেন, সেখানে না ফেরা পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করা কঠিন।টেলিফোনে ওই শ্রমিকেরা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ত্রিপোলি থেকে ৯০০ কিলোমিটার দূরে সাবা জেলার বোরাক আল শাফি এলাকার ‘আল রায়েদ’ নামের নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে বছরখানেক আগে তাঁরা কাজ নেন। শুরু থেকেই তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।টেলিফোনে জাহিদ হোসেন, মাহবুব, হাসান ও রবিউলসহ কয়েকজন শ্রমিক প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের খুব নিম্নমানের খাবার দেওয়া হতো। তুচ্ছ কারণে চাবুক ও স্টিলের লাঠি দিয়ে মারধর করা হতো। নির্যাতনে অনেকের পিঠ ও হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে গেছে। বাধ্য হয়ে তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। বর্তমানে তাঁরা বোরাক আল শাফির একটি পুলিশ স্টেশনের সামনের রাস্তায় আছেন। একইভাবে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৩০ জন ভারতীয়। চার দিন ধরে তাঁরা প্রায় অনাহারে আছেন। এখন তাঁরা দেশে ফিরতে চান। তবে আল রায়েদ প্রতিষ্ঠানটির লোকজন সবার পাসপোর্ট নিয়ে গেছে।শ্রমিকেরা জানান, ঢাকার গুলশানের ‘রিয়াজ ওভারসিজ’ (আরএল নং-৩০) তাঁদের লিবিয়ায় পাঠিয়েছিল। রিয়াজ ওভারসিজের মালিক রিয়াজ-উল ইসলাম জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বায়রার সহসভাপতি।যোগাযোগ করা হলে রিয়াজ ওভারসিজের পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই শ্রমিকদের সমস্যার কথা জেনেছি। কিন্তু বাংলাদেশে বসে এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন।’ তিনি বলেন, এক শ্রেণীর দালাল শ্রমিকদের বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিতে চাইছে বলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমিকেরা প্রতিষ্ঠান ছাড়ার আগে দূতাবাসে কিছুই জানাননি। তবে তিনি সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এলাকার পুলিশপ্রধান তাঁকে বলেছেন, শ্রমিকেরা যেন কোম্পানিতে ফিরে যান, নিরাপত্তার দায়িত্ব তিনি নেবেন। কোম্পানির মালিক তাঁকে বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি সবার বেতন পরিশোধ করবেন। কিন্তু শ্রমিকেরা দেশে ফেরত আসতে চান। তবে তার জন্য পাসপোর্ট, উড়োজাহাজের টিকিট লাগবে। এর জন্য সময় দরকার।জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা জানান, বিশ্বমন্দার কারণে শ্রমবাজারে যখন সংকট ছিল, তখন বাংলাদেশের একটি বড় বাজার ছিল লিবিয়া। কিন্তু জাল ভিসা, প্রতারণাসহ নানা কারণে সেখানে শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। সমস্যার সমাধানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ বছর লিবিয়ায় সফর করে। এরপর কিছু দিন পরিস্থিতি ভালো থাকলেও তিন মাস ধরে লিবিয়া বাংলাদেশ থেকে কোনো শ্রমিক নিচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.