শরিফুল হাসান
সংবাদপত্রশিল্প ও এর সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকসহ সব জনশক্তি ও পরিবহন সব সময় হরতালের আওতামুক্ত থাকলেও জামায়াত-শিবিরের হরতালে তা মানা হচ্ছে না। কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার পর গতকাল রোববার বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা জাতীয় পত্রিকা বহনকারী সব গাড়ি আটকে দেন। ফলে উত্তরাঞ্চলের ১১ জেলায় গতকাল কোনো জাতীয় পত্রিকা পৌঁছায়নি। তবে যোগাযোগ করা হলে হরতাল আহ্বানকারী জামায়াত-শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, তাঁরা পত্রিকা আটকাননি। ‘সাঈদীভক্তরা’ ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজ করেছেন। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সংবাদপত্রের এজেন্টরা জানিয়েছেন, গতকাল ভোরবেলা ঢাকা-রংপুর মড়াসড়কের বগুড়ার বনানী বাইপাস, নয়মাইল এবং শেরপুরে জাতীয় পত্রিকা বহনকারী সব গাড়ি আটকে দেন জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। বারবার অনুরোধ করার পরও তাঁরা পত্রিকা বহনকারী গাড়ি যেতে দেননি। গত সন্ধ্যায় গাড়িগুলো ঢাকায় ফিরে যায়। ফলে গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, নওগাঁ—কোথাও জাতীয় পত্রিকা যায়নি। এসব এলাকার পত্রিকার পাঠকেরা সারা দিন অপেক্ষা করলেও পত্রিকা পাননি। বগুড়া শহরে কয়েকটি পত্রিকার কিছু কপি পৌঁছালেও সেগুলো বিলি করতে পারেননি হকাররা। বগুড়ার জাতীয় সংবাদপত্রের এজেন্ট আবদুর রফিক, রংপুর অঞ্চলের এজেন্ট জিল্লুর রহমান, গাইবান্ধা অঞ্চলের এজেন্ট জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল ভোরবেলা পত্রিকা বহনকারী সব গাড়ি শেরপুর, নয়মাইল ও বনানী বাইপাসে আটকে দেয় পিকেটাররা। ফলে বগুড়া থেকে উত্তরাঞ্চলের কোনো জেলায় গতকাল পত্রিকা যায়নি। তাঁরা বলেন, আগে কোনো হরতালে এমন হয়নি। পত্রিকা হরতালের আওতামুক্ত থাকে। এজেন্ট আবদুর রহমান বললেন, ‘পত্রিকা দিতে না পারায় গ্রাহকদের কাছ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের বিলও তুলতে পারিনি।’ রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট ও নওগাঁ এলাকার এজেন্ট ও পাঠকেরাও এ জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিবিরের বগুড়া শহর কমিটির প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের কেউ কোথাও পত্রিকা আটকায়নি। এরা জামায়াত-শিবিরের কেউ নয়, সাঈদীভক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজ করেছে।’



