গাইবান্ধার তিনটি আসনের নির্বাচন স্থগিত

Spread the love

ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা দায়ী করছেন প্রশাসনকে

শরিফুল হাসান 

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪৭ আসনের ১৮ হাজার ২১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩৯টিতে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১০টিই গাইবান্ধার চারটি আসনের, যার ২০০টিই তিনটি আসনের। সারা দেশের যে আটটি আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, এর মধ্যে ওই তিন আসনও রয়েছে।
ওই তিন আসনের ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এ জন্য দায়ী করেছেন প্রশাসনের অদক্ষতা, গাফিলতি ও যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেওয়াকে। তাঁরা এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, জেলার পলাশবাড়ী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নয় মাস ধরে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালিয়েছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তাণ্ডবকারীদের গ্রেপ্তার করেনি। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ভোটের আগের দিন ও ভোট গ্রহণের দিন (রোববার) সহিংস এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী বা র্যাবের তৎপরতা ছিল না।
গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের মধ্যে একটিতে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় রোববার ভোট গ্রহণ হয় চারটি আসনে। কিন্তু এই চার আসনের ৪৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টিতে ভোট গ্রহণ শুরুই হয়নি।
নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, কয়েক মাস আগে গাইবান্ধায় যোগ দেওয়া জেলা প্রশাসক জহরুল ইসলাম পরিস্থিতি বুঝে সেভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেননি। রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ভোটের দিন সবাইকে যথাযথ নির্দেশনা দিতে পারেননি।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে মোট কেন্দ্র ছিল ১০৯টি, এর মধ্যে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয় ৪৮টিতে। ৩৮টি কেন্দ্রের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম (নৌকা প্রতীক) পেয়েছিলেন ৪৫ হাজার ৩৮৩ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আবদুল কাদের খান (লাঙ্গল) পেয়েছিলেন পাঁচ হাজার ৯৫৮ ভোট। একটির ফল ঘোষণা করা হয়নি।
মনজুরুল ইসলাম গতকাল সোমবার বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই সুন্দরগঞ্জে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ এসব ঘটনার আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্বাচনের আগের রাতে তারা বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা শুরু করে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও তারা সহযোগিতা করেনি।’
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে মোট ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে পলাশবাড়ীতে ৫৩টি এবং সাদুল্যাপুরে ২৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। বাকি ৫০টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউনুস আলী সরকার (নৌকা প্রতীক) ৭০ হাজার ৬২৬ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম খাদেমুল ইসলাম (আনারস প্রতীক) পান ১২ হাজার ৭৮১ ভোট।
ইউনুস আলী বলেন, ‘কেবলমাত্র প্রশাসন ও পুলিশের গাফিলতির কারণেই গাইবান্ধায় এমন পরিস্থিতি হলো। আমি রিটার্নিং অফিসারকে অসংখ্যবার বলেছি ভোটের দিন র্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনী পাঠান। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থাই নেননি।’
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২টির ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। ৫৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের নেতা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ (আনারস প্রতীক) ৫৯ হাজার ৮৬২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী (নৌকা প্রতীক) পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮০৬ ভোট।
মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি রিটার্নিং অফিসারকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শনিবার বিভিন্ন কেন্দ্রে হামলা হলে আমরা বলেছি সেনাবাহিনী-বিজিবি দিয়ে ব্যালট পৌঁছান। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার তা করতে পারেননি।’
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, জহরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় তিন আসনে নির্বাচন স্থগিত হলো।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জহরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সব ভোটকেন্দ্রেই ব্যালট পৌঁছিয়েছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন কেন্দ্রে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এসব কারণে এসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।’ প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন সজাগ ছিল।’
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শামস-উল আলম বলেন, গাইবান্ধায় জামায়াত-শিবির প্রভাবিত এলাকাগুলোতে বেশি সহিংসতা হয়েছে। প্রশাসন সজাগ ও সতর্ক থাকলে এই সমস্যা হতো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.