হীড ইন্টারন্যাশনালের গুরুত্বপূর্ণ সব পদে নির্বাহী পরিচালকের স্বজন
শরিফুল হাসান
বেসরকারি সংস্থাটির (এনজিও) নাম হীড ইন্টারন্যাশনাল। এর নির্বাহী পরিচালক এলগিন সাহা। তাঁর স্ত্রী তেরেজা সাহা হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের উপাধ্যক্ষ। ছেলে তিমন তোরণ সাহা হীড হ্যান্ডিক্রাফটের সহকারী পরিচালক। হীড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের অধ্যক্ষ সুপ্তি সাহা এবং মানব সম্পদ কর্মকর্তা ঊর্মি সাহা তাঁর বোন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ব্যবস্থাপক এলিস অরুণ মজুমদার তাঁর মামাতো ভাই। নিরীক্ষক বাপ্পি পান্ডে ও পুষ্টি কর্মসূচির ব্যবস্থাপক নোয়েল পান্ডে তাঁর ভাগ্নে। লিয়াজোঁ কর্মকর্তা স্যামুয়েল গাইন তাঁর ভগ্নিপতি। হীড মিউজিক স্কুলের অধ্যক্ষ দিলীপ সরকার তাঁর ছেলের শ্বশুর। ক্ষুদ্রঋণ বিভাগের পরিচালক নিখিল কৃষ্ণ সাহা ও নিখিল চন্দ্র সাহা তাঁর দুই ভাই। হীডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সব পদে আত্মীয়স্বজনকে বসিয়ে এভাবেই এনজিওটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন এলগিন সাহা। আর্থিক অনিয়ম, আদিবাসী সংগঠনের নামে বরাদ্দকৃত জমি কিনে আড়াই কোটি টাকার হিসাব না দেখানোসহ বহু অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে হীডের কয়েকটি ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। তবে এলগিন সাহা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সবাই মিলে চাইছে, সংস্থাটি যেন বন্ধ হয়ে যায়। আত্মীয়স্বজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ যাঁরা করছেন, তাঁদের আত্মীয়স্বজনও এখানে চাকরি করছেন। এনজিও ব্যুরোতে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, এলগিন সাহা মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনে ট্রাইবাল অ্যাসোসিয়েশনের নামে বরাদ্দ করা ২০ কাঠা জমি কেনেন দুই কোটি ৫০ লাখ টাকায়। কিন্তু তিনি খরচ দেখান সাত কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে ব্যুরোর একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ জমি ক্রয়ের অন্ততপক্ষে এক কোটি ৮০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে অবস্থিত হীড হ্যান্ডিক্র্যাফটের দোকান বিক্রির ২৩ লাখ টাকা আত্মসাত্, সংস্থার টাকায় খুলনায় বোনের বাড়ি নির্মাণ, ভুয়া বায়না করে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাত্সহ বহু অভিযোগ আছে এলগিন সাহার বিরুদ্ধে। এমনকি সিডরের পর আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আছে এলগিন সাহার বিরুদ্ধে। ব্যুরোতে দায়েরকৃত এ অভিযোগগুলোর তদন্ত করছেন এনজিও ব্যুরোর উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হীডের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।ব্যুরো সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এর আগেও ব্যুরো তিন সদস্যের একটি কমিটি করে এলগিন সাহার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনেও তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমি ক্রয়সহ বেশ কিছু অভিযোগের সত্যতা মেলে। ৫ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের কাছে দেওয়া এনজিও ব্যুরোর এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এলগিন সাহার বিরুদ্ধে পাওয়া নানা অভিযোগ পর্যালোচনা এবং পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, তিনি অনেক গুরুতর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।’ ২৩ নভেম্বর ব্যুরোর অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা নূরজাহান স্বাক্ষরিত আরেক চিঠিতে বলা হয়, সংস্থার স্বার্থে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এলগিন সাহা যাতে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে না পারেন, সে জন্য তাঁকে নির্বাহী কমিটির বাইরে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং বিষয়টি দ্রুত ব্যুরোকে জানানো হোক।ব্যুরোর এ নির্দেশ মেনে কেন তদন্ত চলাকালে তিনি সরছেন না জানতে চাইলে এলগিন বলেন, তিনি আদালতে যাচ্ছেন। আদালতের নির্দেশে তিনি বহাল থাকবেন।



