অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখলেও প্রবাসী শ্রমিকেরা নিগৃহীত

Spread the love

শরিফুল হাসান

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতিতে এখন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন প্রবাসী শ্রমিকেরা। তাঁদের প্রবাসী-আয়ের (রেমিট্যান্স) পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। কিন্তু যাঁরা এত কষ্ট করে টাকা পাঠাচ্ছেন, প্রতিমুহূর্তেই তাঁরা দেশে-বিদেশে লাঞ্ছিত, নিগৃহীত, নির্যাতিত।‘প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা ও তাঁদের অধিকার’ নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা উঠে এসেছে। ‘মাইগ্রেন্টস ফোরাম ইন এশিয়া’র সহযোগিতায় মালদ্বীপের মানবাধিকার কমিশন ও আমেরিকান সেন্টার ফর সলিডারিটি এই কর্মশালার আয়োজন করে। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এই কর্মশালায় ফিলিপাইন, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মানবা-ধিকার কমিশনের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও অভিবাসনবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা-গুলোর প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন।কর্মশালার শুরুতে মাইগ্রেন্টস ফোরাম ইন এশিয়ার প্রকল্প পরিচালক মার্জিয়ান সান্তোষ বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে এখন প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ১২ শতাংশেরও বেশি। ভারতের জিডিপিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ৬ ও শ্রীলঙ্কায় ৮ শতাংশ। এই বিশাল অবদান রাখা সত্ত্বেও প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যার অন্ত নেই।বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ফাওজিয়া করিম বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ লাখ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু দেশে সবার কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে না। তাই অনেকেই ভাগ্য বদলাতে বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু জনশক্তি রপ্তানিকারক ও দালালেরা নানাভাবে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করে। অনেকে নির্যাতিত হন নানাভাবে। অনেক নারী শ্রমিক শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হন। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আর বিদেশে থাকা আমাদের প্রবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষায় জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলেও আমরা প্রতিবেদন দেব।’শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক তুতসিয়া সামারাসকেরা বলেন, শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘদিন যুদ্ধাবস্থা চলেছে। রাজনৈতিক ও কর্মসংস্থানের এই সংকট থেকে উত্তরণে অনেকেই ভাগ্য বদলাতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। শ্রীলঙ্কার এসব শ্রমিক দক্ষ হলেও ঠিকমতো বেতন পান না। শ্রমিক গ্রহণকারী দেশগুলো এ ব্যাপারে মোটেও সচেতন নয়। এ জন্য শ্রম গ্রহণকারী দেশ-গুলোকে একসঙ্গে বিভিন্ন ফোরামে কথা বলতে হবে।মালদ্বীপের মানবাধিকার কমিশনের সদস্য জিহান মাহমুদ বলেন, ‘মালদ্বীপের মোট জনসংখ্যা তিন লাখ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এক লাখেরও বেশি অভিবাসী, যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি। কিন্তু তারা যে পরিবেশে থাকে, তা মোটেও মানবিক নয়।’মালদ্বীপের মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক মুমিনা ওয়াহিদ বলেন, ‘আমরা নিজেরা ভালো থাকব আর প্রবাসী শ্রমিকেরা খারাপ থাকবেন, তা হতে পারে না।’বাংলাদেশের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (কল্যাণ) মোহসিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক বিদেশে মারা যাচ্ছেন। আমরা চাই মানবাধিকার কমিশনগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুক। প্রবাসী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারকে কীভাবে আরও সহায়তা করা যায়, সেটিও আমরা ভাবছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.