শরিফুল হাসান
দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তানেরা সরকারের শিক্ষাবৃত্তি পাবে। অষ্টম শ্রেণী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মেধার ভিত্তিতে এ বৃত্তি দেওয়া হবে। জনশক্তি রপ্তানিকারক ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, এর ফলে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের সন্তানেরা লেখাপড়ায় অনেক বেশি উৎসাহী হয়ে উঠবে।বর্তমানে বিশ্বের ১৪৩টি দেশে এক কোটি বাংলাদেশি বিদেশে আছেন। সরকারের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ৭৫ লাখই প্রবাসী শ্রমিক। তাঁরা অনেকেই বছরের পর বছর ধরে ধরে বিদেশে আছেন। বিএমইটির কর্মকর্তারা জানান, এত দিন পর্যন্ত বিদেশে মৃত বাংলাদেশি কর্মীদের লাশ পরিবহন ও দাফন কিংবা বিদেশে আটকে পড়া শ্রমিকদের দেশে আনার কাজেই প্রবাসীকল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ খরচ করা হতো। কিন্তু একজন প্রবাসী কর্মীর ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া কিংবা উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে কখনোই সরকারের কোনো সহায়তা ছিল না। সম্প্রতি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য মেধাবৃত্তি চালুর প্রস্তাব ওঠে। পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এরপর এ বিষয়ে নীতিমালা করার সিদ্ধান্ত হয়।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএমইটির পরিচালক (কল্যাণ) মোহসিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ৭৫ লাখ প্রবাসী শ্রমিক বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখছেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কারণেই বিশ্বমন্দার সময় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যখন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল, আমরা তখন কোনো সমস্যায় পড়িনি। কিন্তু সেই প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্র থেকে আমরা খুব বেশি কিছু করতে পারছি না। এ কারণে তাঁদের মেধাবী সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।’ প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যাঁরা অন্তত পাঁচ বছর কিংবা এর বেশি সময় ধরে বিদেশে আছেন, তাঁদের সন্তানেরাই মেধাবৃত্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। বাবা-মা দুজনেই বিদেশে থাকলে যেকোনো একজনের নামে আবেদন করলেই হবে। ২০০০ সালের পর বিদেশে মারা গেছেন এমন প্রবাসীদের সন্তানেরাও মেধাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে নীতিমালা করার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। কোন ভিত্তিতে মেধাবৃত্তি দেওয়া হবে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, ‘বাংলাদেশের যেসব এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশে যান, সেসব এলাকা প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি টাকার একটি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করা হবে। এখান থেকে যে লভ্যাংশ আসবে, তা দিয়ে বৃত্তি দেওয়ার কাজ শুরু হবে।’বিএমইটির কর্মকর্তারা জানান, অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি পরীক্ষায় যারা ভালো ফল করবে, তাদের মধ্য থেকে বৃত্তিপ্রাপ্তদের এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত মাসে দেড় হাজার টাকা করে বছরে ১৮ হাজার টাকাসহ মোট ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একইভাবে দেড় হাজার টাকাসহ বছরে ২১ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যাঁরা মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দেশের কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন, তাঁদের জন্য বছরে ২৭ হাজার টাকা দেওয়া হবে।জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রবাসী শ্রমিকেরা বছরের পর বছর বিদেশে থাকেন। তাঁরা ঠিকমতো ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নিতে পারেন না। এখন সরকার যদি প্রবাসীদের সন্তানদের বৃত্তি দেয়, তাহলে তাঁদের সন্তানেরা অনেক বেশি উৎসাহী হয়ে উঠবে। বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারগুলোর সন্তানেরা অনেক বেশি উপকৃত হবে।’



