দুশ্চিন্তায় আ.লীগ, স্বস্তিতে বিএনপি
শরিফুল হাসান

যশোরের চারটি উপজেলা পরিষদের আজ বৃহস্পতিবারের নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। কারণ, চারটি উপজেলার মধ্যে শার্শা ও ঝিকরগাছায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বাঘারপাড়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেও ব্যালটে তাঁর প্রতীক থাকছে। চৌগাছাতে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও চারটিতেই ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দুঃশ্চিন্তায় থাকার কথা জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও বলেছেন। অন্যদিকে প্রতি উপজেলায় একজন করে প্রার্থী থাকায় স্বস্তিতে আছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯-দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থী ও নেতারা।
১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে জেলার অভয়নগরে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত রবিন অধিকারী বড় ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপি-সমর্থিত নূরুল হক মোল্যার কাছে।
শার্শা: উপজেলার মোট ভোটারের সংখ্যা দুই লাখ ৩৪ হাজার ৭৬২ জন। এখানে ৯৯টি কেন্দ্রে আজ ভোট গ্রহণ হবে। এখানে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী সিরাজুল হক (প্রতীক মোটরসাইকেল)। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মান্নান (প্রতীক দোয়াত-কলম)। দুই প্রার্থীর কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগও দুই ভাগে বিভক্ত। অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী খায়রুজ্জামান (প্রতীক আনারস)।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আলেয়া খাতুন ও বিদ্রোহী প্রার্থী আলেয়া ফেরদৌস। এ পদে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী নূর জাহান।
ঝিকরগাছা: এখানে মোট ভোটার দুই লাখ ৪১ হাজার ৩৪ জন। ভোটকেন্দ্র ৯৪টি। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী মনিরুল ইসলাম (প্রতীক দোয়াত-কলম) ও বিদ্রোহী প্রার্থী মুছা মাহমুদ (প্রতীক মোটরসাইকেল)। বিএনপি-সমর্থিত একক প্রার্থী সাবিরা নাজমুল। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজমুল ইসলামের স্ত্রী। বছর দুয়েক আগে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাঁকে অপহরণের পরদিন ভোরে জয়দেবপুরে শালবাগান থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
বাঘারপাড়া: এখানে মোট ভোটার এক লাখ ৪৪ হাজার ৩৪৫ জন এবং ভোটকেন্দ্র ৬৩টি। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আবদুর রউফ (প্রতীক ঘোড়া)। বিদ্রোহী প্রার্থী মুনজুর রশিদ (প্রতীক আনারস) গত শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে ব্যালটে তাঁর প্রতীক থাকছে। চেয়ারম্যান পদে অপর দুই প্রার্থী হলেন বিএনপি-সমর্থিত মশিউর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের আবু তাহের।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী গোলাম ছরোয়ার ও বিদ্রোহী প্রার্থী ফয়সাল আহমেদ। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি-সমর্থিত একজনসহ আরও ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন।
চৌগাছা: এ উপজেলায় মোট ভোটার এক লাখ ৫৫ হাজার ৭১৪ জন এবং ভোটকেন্দ্র ৮০টি। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমান (প্রতীক ঘোড়া), বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী জহুরুল ইসলাম (প্রতীক আনারস), বাসদের আবদুল মালেক (প্রতীক মোটরসাইকেল) এবং জাতীয় পার্টির নুরুল কদর (প্রতীক দোয়াত-কলম)।
অবশ্য ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলের সমর্থন পাওয়া আবদুর রহিম মল্লিকের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী দেবাশীষ মিশ্র জয়। এ পদে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা গোলাম মোর্শেদ। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আকলিমা খাতুন ও বিদ্রোহী প্রার্থী শাহানা ফিরোজ।
বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দুঃশ্চিন্তার কথা জানান। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও আমরা সেটিকে খুব বড় সমস্যা মনে করছি না। চারটি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। এর মধ্যে শার্শা ও বাঘারপাড়ায় স্বাভাবিকভাবে জয় হবে। চৌগাছা ও ঝিকরগাছায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।’
আর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক বলেন, জনমতের প্রতিফলন ঘটলে চারটিতেই বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন।
যশোরের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ এন এম মঈনুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সব কেন্দ্রে ব্যালটসহ সব উপকরণ পৌঁছে গেছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর দিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।



