মরিশাস থেকে ছয় বাংলাদেশির ফেরত ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা!

Spread the love

শরিফুল হাসান

মরিশাসে কর্মরত ছয় হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তত্পরতা শুরু করেছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত এই বাংলাদেশিরা মরিশাসে থাকতে পারবেন। তবে মরিশাসে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকেরা বলেছেন, দ্রুত যেন এ সমস্যার সমাধান করা হয়।মরিশাসে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছেন।

তঁদের বেশির ভাগই কাজ করেন দেশটির বস্ত্র খাতে। দীর্ঘদিন ধরে তঁারা কাজ করলেও এ বছরের মাঝামাঝি হঠাত্ করে মরিশাস সরকার ঘোষণা করে, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে তারা এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ছয় হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাবে। এতে জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সেখানে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে।মরিশাসের কয়েকজন শ্রমিক প্রথম আলোকে জানান, দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে তঁারা মরিশাসে গেছেন।

বস্ত্র খাত ছাড়াও ছাপাখানা, বেকারি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে তঁারা কাজ করছেন। এখন হঠাত্ করে চলে আসতে হলে তঁাদের অনেককেই পথে বসতে হবে।গোলাম কিবরিয়া নামের এক বাংলাদেশি প্রথম আলোকে জানান, তিনি ২০০৮ সালের ১৭ নভেম্বর কম্পিউটারসংক্রান্ত কাজের জন্য ভিসা নিয়ে তিন বছরের চুক্তিকে মরিশাসে আসেন। এ জন্য তঁাকে আড়াই লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে।

এখনো অর্ধেক টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। অথচ মরিশাস সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যেই তঁাকে ফিরতে হবে। কিবরিয়া বলেন, Èআমার মতো বেশির ভাগ শ্রমিকই তিন বছরের চুক্তিতে এখানে এসেছেন। ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে হলে আমার লাশটাই যাবে।

কারণ জমিজমা বিক্রি করে সচ্ছল হব এমন আশায় এখানে এসেছি।’ মরিশাসে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই। কেনিয়া দূতাবাস এ বিষয়ে দেখভাল করে। কিবরিয়াসহ আরও কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, মরিশাসে বাংলাদেশের একজন কাউন্সিলর থাকলেও শ্রমিকেরা কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না তঁর কাছ থেকে।

এ ব্যাপারে কেনিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রশাসনিক প্রধান (এইচওসি) এবং তৃতীয় সচিব সাখাওয়াত হোসেন টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, Èমরিশাসের শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে দূতাবাস আন্তরিক চষ্টো চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি কেনিয়ার হাইকমিশনারও মরিশাস থেকে ঘুরে এসেছেন।

বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি দলও সেখানে যাবে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগির শ্রমিকদের ফেরত পাঠানোর সদ্ধিান্ত প্রত্যাহার করা হবে।’পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস বলেন, Èমরিশাস থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যেন ফেরত পাঠানো না হয়, সে জন্য দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অচিরেই দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিরা মরিশাস যাবেন।

আমরা চষ্টো করব যাতে বৈধ শ্রমিকেরা তঁদের মেয়াদ পর্যন্ত মরিশাসে থাকতে পারেন।’পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল এশিয়া ও আফ্রিকা শাখার মহাপরিচালক এম ওয়াহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চলতি মাসের ১৮ থেকে ২০ তারিখ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিশাস সফর করবেন। তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে শ্রমিকদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, এ সফরের পর শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান হওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।’

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, Èসরকারের উচ্চপর্যায়ের এই চষ্টোর বিষয়টি খুবই আশাব্যঞ্জক।

মরিশাস শ্রমিকদের ফেরত পাঠাবে এ খবর জানার পরপরই আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাই। সরকার এর পরই নানা পদক্ষেপ নেয়। আর মরিশাস যে কারণে শ্রমিকদের পাঠানোর কথা বলেছিল, সেটি ছিল অর্থনৈতিক মন্দা। কিন্তু এখন সেই মন্দা কেটে যাচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.