প্রথম চার মাসে জনশক্তি রপ্তানি-অর্থপ্রবাহ বেড়েছে

Spread the love

শরিফুল হাসান

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে জনশক্তি রপ্তানি ও বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ (রেমিট্যান্স) বেড়েছে। গত বছরের প্রথম চার মাসে বিদেশে গিয়েছিলেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৭ জন। একই সময়ে বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ ছিল ২৫ হাজার ৩৩৫ দশমিক ১৮ কোটি টাকা। এ বছর একই সময়ে বিদেশে গেছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৩ জন, অর্থপ্রবাহ ২৮ হাজার ৭০৩ দশমিক ২৭ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরবের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিলে বিদেশে গিয়েছিলেন ৩৫ হাজার ৬৪৭ জন। এবার গেছেন ৪৩ হাজার দুজন। গত বছরের এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ছয় হাজার ৩৮৬ দশমিক ৮৮ কোটি টাকা। এবার এসেছে সাত হাজার ২২ দশমিক ৯০ কোটি টাকা।বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম চার মাসে জনশক্তি রপ্তানি ও অর্থপ্রবাহ দুটিই বেড়েছে। ভবিষ্যতে জনশক্তি রপ্তানি আরও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করায় এখন প্রতারণা কমছে। এ কার্ড ছাড়া কারোই এখন বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই।বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারিতে ৩২ হাজার ২৯৪ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৩ হাজার ৪০৩ জন এবং মার্চে ৪৪ হাজার ৬০৪ জন কর্মী বিদেশ গেছেন। রেমিট্যান্স এসেছে যথাক্রমে ছয় হাজার ৮৯৪ দশমিক ৭২ কোটি, সাত হাজার ২৪ দশমিক ২৭ কোটি এবং সাত হাজার ৭৬১ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা।বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে সবচেয়ে বেশি ৭৮ হাজার ৪৬৭ জন কর্মী আরব আমিরাতে গেছেন। ওমানে বাংলাদেশের বাজার বাড়ছে। গত চার মাসে ২৭ হাজার ৪৩৮ জন ওমানে গেছেন। এ ছাড়া গত চার মাসে ১৪ হাজার ৫০৭ জন সিঙ্গাপুরে এবং ছয় হাজার ৮৩৪ জন লেবাননে গেছেন।তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবের দুরবস্থা এখনো কাটেনি। এপ্রিলে সৌদি আরবে গেছেন মাত্র এক হাজার ৪৪ জন। কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি এখনো প্রায় বন্ধ। গত মাসে মাত্র তিনজন কর্মী গেছেন সে দেশে।এর বাইরে চার মাসে দুই হাজার ৭৬৫ জন কর্মী ইউরোপের দেশ ইতালি, দুই হাজার ২৩ জন মিসর, এক হাজার ৬২৩ জন মরিশাস, এক হাজার ৮৩৫ জন ব্রুনেই এবং ৯১৮ জন কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন।বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে নারী অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। এ সময়ে ১০ হাজার ৮৮৬ জন নারীকর্মী চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৬১৯ জন লেবানন, দুই হাজার ৪৭৭ জন আরব আমিরাত এবং এক হাজার ৮০৬ জন জর্ডানে গেছেন। গত বছরের প্রথম চার মাসে এ সংখ্যা ছিল সাত হাজার ৯৪৯ জন।জনশক্তি রপ্তানির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন—বায়রার সভাপতি আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ও বায়রার যৌথ উদ্যোগে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ছে। লোক বেশি গেলে রেমিট্যান্সও আসবে। শিগগির সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ার বাজার চালু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.