এনজিও ২৫০০, তথ্য কর্মকর্তা ১০৮টিতে

Spread the love

শরিফুল হাসান


বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছিল। কিন্তু সেই এনজিওগুলোই এখন তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে। তথ্য কমিশন এবং এনজিও ব্যুরোর কাছে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তথ্য কমিশন নিজেই।
২০০৯ সালের ২৯ মার্চ সংসদে তথ্য অধিকার আইন পাস হয়। আইনটি করার পরপরই এনজিওগুলোকে বলা হয়, প্রকল্প, উন্নয়নকাজসহ সার্বিক বিষয়ে যেকোনো তথ্য যেন সহজেই পাওয়া যায়, সে কারণে প্রতিটি এনজিওকে একটি করে তথ্য ইউনিট করতে হবে। এ ছাড়া তথ্য কর্মকর্তার নাম এনজিও ব্যুরো ও তথ্য কমিশনকে জানাতে হবে। কিন্তু দুই হাজারের বেশি এনজিও এখনো তথ্য ইউনিট চালু করেনি।
এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর উপপরিচালক এ কে এম মোয়াজ্জম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তথ্য অধিকার আইন করার পরপরই সব এনজিওকে তথ্য প্রদান ইউনিট খুলে কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে বলা হয়। কিন্তু ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১০৮টি এনজিও তথ্য প্রদান ইউনিট চালু করেছে। অথচ ব্যুরোতে এখন নিবন্ধিত এনজিওর সংখ্যা দুই হাজার ২৫২। দুঃখের বিষয় হলো, অনেক বড় বড় এনজিও পর্যন্ত তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়নি।
এনজিওগুলোকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যুরো নিবন্ধিত সব বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট সংস্থা তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের অন্তর্ভুক্ত। আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, তথ্যের অবাধ প্রবাহের দায়িত্ব পালন করবেন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি তথ্য ইউনিট গঠন করতে এবং একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যাতে বেসরকারি সংস্থাগুলো থেকে জনগণ তথ্য পায়।
ব্যুরো সূত্র জানায়, কাগজে-কলমে এনজিওগুলো ১৯৯০-৯১ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর জানুয়ারি পর্যন্ত এ দেশে ২০ হাজার ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। একই সময়ে ব্যুরোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন কতটা হয়েছে, সে হিসাব নেই। এর অন্যতম কারণ এনজিওগুলোর তথ্যের দুষ্প্রাপ্যতা। এ কারণেই সরকার চায়, এনজিওগুলোর তথ্য সহজেই পাওয়া যাক।
জানতে চাইলে প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, তথ্য অধিকার আইনের আন্দোলনে এনজিওগুলো সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। তাদের মধ্যে তখন যে উদ্যোগ ছিল এখন ততটা নেই। কিছু এনজিও এ ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকলেও বাকিদের উৎসাহ নেই। তবে যেহেতু তথ্য অধিকার আইন হয়ে গেছে, সে কারণে সবাইকে তা মানতে হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনজিওগুলোর সংগঠন ফেডারেশন অব এনজিওস ইন বাংলাদেশের (এফএনবি) পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, বেশির ভাগ বড় এনজিও তথ্য ইউনিট খুলেছে। কিন্তু ছোট এনজিওগুলো আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো তথ্য প্রদান ইউনিট চালু করতে পারেনি। তবে সব এনজিওরই তথ্য প্রদান ইউনিট চালু করা উচিত।
একই রকম মন্তব্য করে অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিস বাংলাদেশের (অ্যাডাব) ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল আলম বলেন, তথ্য অধিকার আইন করার জন্য যেহেতু এনজিওগুলোর অনেক ভূমিকা আছে, কাজেই তাদের উচিত নিজে থেকেই তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published.