এক বছরে পাঁচ লাখ কর্মী যাবে মালয়েশিয়া

Spread the love

শরিফুল হাসান

বাংলাদেশ থেকে আগামী তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে আগামী এক বছরের মধ্যেই পাঁচ লাখ কর্মী যাবে। তবে এবার আর সরকারিভাবে নয়, বেসরকারিভাবে কর্মী পাঠানো হবে। কিন্তু নতুন করে কর্মী নেওয়ার আগে অবৈধদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে মালয়েশিয়া।
২৪ জুলাই কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বৈঠকের পর এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দুই দেশ। শিগগির ঢাকায় এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া। বর্তমানেও প্রায় ছয় লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন দেশটিতে। সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গণকবর আবিষ্কার এবং সাগরপথে মানুষের দুর্দশা নিয়ে হইচই শুরুর পর আবার বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া।
বছরে পাঁচ লাখ: মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এত দিন সরকারিভাবে (জিটুজি) কর্মী যেত। এখন বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) পদ্ধতিতে লোক যাবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তাঁরা আগামী এক বছরেই পাঁচ লাখ কর্মী নিতে চান।’
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী আবুল কালাম বলেন, এ বিষয়ে ঈদের পর সমঝোতা স্মারক সই হবে।
কারা যাবে? সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ২০১৩ সালে সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছিল সারা দেশে। কিন্তু আট হাজার বাদে বাকিরা যেতে পারেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার বেসরকারিভাবে কর্মী গেলেও নিবন্ধিত কর্মী থেকেই মালয়েশিয়া পাঠানো হবে। জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা নিবন্ধনের বাইরে থেকে কোনো কর্মী পাঠাতে পারবেন না।
কেন এমনটি করা হচ্ছে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, নিবন্ধিত কর্মীদের মধ্যে থেকে কর্মী নিয়োগ করার উন্মেষ হচ্ছে স্বচ্ছতা। এটা হলে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যার-তার কাছ থেকে বাড়তি টাকা নিতে পারবে না।
খরচ কেমন? সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ৩৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু আগে বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়া যেতে দুই থেকে তিন লাখ টাকাও লেগেছে। এবার ‘বিটুবি’ পদ্ধতিতেও আবার খরচ আগের মতো বেড়ে যাবে কি না জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের কোনো কর্মীর যাওয়ার খরচ দিতে হবে না। এ ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকেই খরচ দিতে হবে। আর কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়গুলো নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকেই নিশ্চিত করতে হবে।’
কত দিন থাকার সুযোগ পাবেন: বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী আসবে তাদের প্রথমে তিন বছরের ভিসা দেওয়া হবে। পরে এক বছরের জন্য বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। অনলাইন পদ্ধতিতে এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। দুই দেশের সরকারি সংস্থা এই প্রক্রিয়াটির পর্যবেক্ষণে থাকবে। চুক্তির মেয়াদ শেষে অবশ্যই কর্মীদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। তাঁরা কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে পারবে না।
আগে অবৈধদের বিরুদ্ধে অভিযান: মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশটিতে ১৯ লাখ বৈধ বিদেশি কর্মী রয়েছে। এর মধ্যে কয়েক লাখ এখন অবৈধ। এর আগে ২০১১ সালে অবৈধদের বৈধ করার সুযোগ দেয় মালয়েশিয়া। সে সময় সাড়ে তিন লাখেরও বেশি অবৈধ বাংলাদেশি বৈধ হওয়ার সুযোগ পায়। তবে এবার আর বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.