শরিফুল হাসান
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি প্রতিষ্ঠানের ২০০ বাংলাদেশি শ্রমিক সাত-আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে চরম খাদ্য-সংকটেও পড়েছেন তাঁরা। ইউএইর শ্রম অধিদপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। এ অবস্থায় মরুভূমির একটি ক্যাম্পে অমানবিক জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাঁদের।এই শ্রমিকেরা ইউএইর আল মিরাইখি জেনারেল কন্ট্রাকটিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ইউএইর বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশি এই শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তাঁদের কাছে জরুরিভাবে খাবারদাবারও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকেরা চাইলে অন্য কোম্পানিতে চলে যেতে পারবেন। রাসেল, মনিরসহ ওই কারখানার কয়েকজন শ্রমিক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। কিন্তু গত সাত মাস ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শন ও বেতন শাখায় অভিযোগ করেন। কিন্তু তার পরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। পরে তাঁরা বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখায় গিয়েও লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। শ্রমিকেরা জানান, মরুভূমির মধ্যে একটি ক্যাম্পে তাঁরা গাদাগাদি করে থাকেন। প্রায়ই তাঁদের না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।এ ব্যাপারে ইউএইর বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর লতিফুল হক কাজমী গতকাল মুঠোফোনে জানান, শ্রমিকদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। এ অবস্থায় দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় তাঁদের জন্য প্রাথমিকভাবে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।শ্রম কাউন্সিলর বলেন, ইউএইর বেতনসংক্রান্ত অধিদপ্তরের প্রধান ঘটনাস্থলে গিয়ে যাঁরা এখনো শ্রম আদালতে অভিযোগ করেননি তাঁদের অতিসত্বর অভিযোগ করতে বলেছেন। এ ছাড়া শ্রমিকদের মধ্যে যাঁরা অন্য কোম্পানিতে যেতে ইচ্ছুক, তাঁরা যেতে পারবেন। কেউ যদি দেশে ফিরে আসতে চান, তাহলে সেই সুযোগও পাবেন।



