শরিফুল হাসান
মাজাককালি, ক্যাটরিনা—এমন বিদেশি নামে যখন দেশের ঈদের বাজার সরগরম, তখন দেশি কাপড় খুঁজতে যাওয়াটা কষ্টকরই বটে। তবে এই কঠিন কাজটি সহজ করে দিয়েছে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট। দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সব রকমের পোশাকই পাওয়া যাবে সেখানে।একসময় বইয়ের মার্কেটের জন্য বিখ্যাত ছিল আজিজ সুপার মার্কেট। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে বইয়ের দোকানগুলোর জায়গা দখল করেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। গতকাল রোববার গিয়ে দেখা যায়, নিচতলা থেকে তিনতলা—বেশির ভাগ দোকানই সেজেছে ঈদের সাজে। মাসখানেক আগেও যেখানে অন্য দোকান ছিল। এখন সেখানে হয়ে গেছে ফ্যাশন হাউস। পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শাড়ি, বাচ্চাদের পোশাক, টি-শার্ট, গেঞ্জি—সবই আছে এই মার্কেটে।দোকানের নামগুলোও বেশ সুন্দর। প্রচ্ছদ, বকুল, বরণ, ক্যানভাস, নহলি, খেয়া, মেঘ, ঢাকঢোল, যুগান্তর, কৃষ্ণকলি, ছোটবেলা, কিংবদন্তী, নিত্য উপহার, দেশাল, অতশী, কাকতাড়ুয়া, শাদামাটা, শাদামন, চাঁদের হাট, বাংলার রং, চরকি, স্বপ্নবাজ, ১৯৭১, রাঙ্গা, সারাবেলা, বাঙ্গাল, ফেরিওয়ালা—সব দোকানেই মিলবে দেশি পোশাক। নরসিংদীর তাঁত, কুমিল্লার খাদি, রাজশাহীর সিল্কসহ ঐতিহ্যবাহী সব পোশাকই আছে।বাচ্চাদের পোশাক কিনতে আজিজ সুপার মার্কেটে এসেছিলেন সুচিরা হোসেন। জানালেন, ছেলেদের পোশাকের জন্য মার্কেটটি খুবই ভালো। সব বয়সের ছেলেদের পোশাক, পাঞ্জাবি, ফতুয়া পাওয়া যায় এখানে। তাই পরিবারের সদস্যদের পোশাক কিনতে এখানে এসেছেন তিনি।লালবাগ থেকে এসেছিলেন রুদ্র মাশুক। বললেন, অন্য যেকোনো মার্কেট থেকে এ মার্কেট আলাদা। দেশের পতাকা, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে এখানকার পোশাকে। মিরপুর থেকে এসেছেন মাহবুবা সুলতানা। বললেন, আজিজের ফ্যাশন হাউসগুলোতে দেশি ঐতিহ্যের সব পোশাক পাওয়া যায়। অন্য যেকোনো মার্কেট থেকে এটি স্বতন্ত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আহসান জানালেন, ছোট ভাইবোনের জন্য পোশাক কিনতে এখানে এসেছেন। মেয়েদের পোশাকের দোকান দেশালে বেশ ভিড়। ব্যবস্থাপক রবিন মুশফিক জানালেন, ঈদ উপলক্ষে নতুন সব নকশার পোশাক এনেছেন।শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ও হাশেম খানের চিরায়ত ভঙ্গির আধুনিক মিশেলে আঁকা লোকজ নানা রকম শাড়ি বিক্রি হচ্ছে নিত্য উপহারে। শিল্পী চন্দ্র শেখর সাহা, ধ্রুব এষ, সব্যসাচী হাজরা ও মাহবুবুর রহমানের ডিজাইনে নকশিকাঁথা, স্থাপত্য নকশা, ক্যালিওগ্রাফিসহ নানা ধরনের শাড়ি পাওয়া যাবে। নিত্য উপহারের শাড়ির দোকানের ব্যবস্থাপক ফারিয়া ফারজানা জানালেন, সাড়ে ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পড়বে এসব শাড়ির। এন্ডি হাফসিল্ক, খাদি হাফসিল্ক, হাফসিল্ক কোটা, টিস্যু সিল্ক, মসলিন সিল্ক, মসলিন কোটাসহ নানা ধরনের শাড়ি পাওয়া যাবে এখানে।ছেলেদের শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়া, মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, টপস, ফতুয়া—সবই পাওয়া যাবে আজিজে। প্রচ্ছদের মালিক শেখ মুহাম্মদ ফয়েজউল্লাহ, আরশি ফ্যাশন হাউসের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম ও শাদামাটার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হীরা জানালেন, বিক্রি ধীরে ধীরে জমে উঠছে। তবে ১০ রোজার পর মার্কেট আরও সরগরম হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তাঁরা।



