নিয়োগ পাচ্ছেন না ৪৮০ চিকিৎসক
শরিফুল হাসান
অস্থায়ীভাবে (অ্যাডহক) সাড়ে তিন হাজার এবং ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ৮০০ জনের নিয়োগ দেওয়ার পরও দেশে চিকিৎসকের দেড় হাজার পদ শূন্য আছে। অথচ ‘পদ নেই’ বলে ২৮তম বিসিএসে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৪৮০ জন চিকিৎসককে ক্যাডার পদে নিয়োগ দিচ্ছে না সরকার। অন্যদিকে নতুন কোটা সংরক্ষণ পদ্ধতির কারণে শূন্য রাখতে হচ্ছে স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রায় ৩০০ পদ।সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) বলছে, লিখিত ও মৌখিকসহ চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও শূন্য পদ না থাকায় ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণদের নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। আর যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী পাওয়া যায়নি, তাই প্রায় ৩০০ পদ শূন্য রাখতে হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্য ক্যাডারের বাইরেও চিকিৎসক দরকার হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চিকিৎসকদের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ২৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় মোট এক হাজার ২০৪ জন চিকিৎসক উত্তীর্ণ হন। পিএসসি উত্তীর্ণ এই চিকিৎসকদের মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সাময়িকভাবে ৭২৪ জন এমবিবিএস এবং ১০১ জন বিডিএস চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ করে। পদ না থাকায় বাকি ৪৮০ জন চিকিৎসককে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়। ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তানভীর আহমেদ চৌধুরী, নাসিরউদ্দিন ও হাফিজা ফারজানাসহ উত্তীর্ণ কয়েকজন প্রার্থী বলেন, এক একটি বিসিএস পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই থেকে আড়াই বছর লাগে। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তাঁরা ২৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। পদ নেই বলে নিয়োগ না দেওয়া অমানবিক। উত্তীর্ণ প্রার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। শূন্য পদে নিয়োগের দাবিতে তাঁরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পিএসসির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, উত্তীর্ণ ৪৮০ জনকে পর্যায়ক্রমে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। তবে যেহেতু পদ শূন্য আছে সেহেতু সরকার চাইলে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব শারফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে সরকারি চিকিৎসকের অনেক পদ শূন্য। আমরা সরকার ও পিএসসির কাছে তাঁদের নিয়োগের ব্যাপারে অনুরোধ জানাব।’



