নির্বাচনী লড়াইয়ে গৃহিণীরা
শরিফুল হাসান
জেবুন্নেছার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্বাক্ষরজ্ঞান। রাজিয়া সুলতানা অষ্টম শ্রেণী পাস। তাঁরা দুজনেই গৃহিণী। দুজনেই এবার নেমেছেন নির্বাচনী লড়াইয়ে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরা। সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ওই পদের প্রার্থীদের একজন শবনম আরা স্বশিক্ষিত।রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১০টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৬৯ জনের মধ্যে এই তিনজনও রয়েছেন। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা অনুসারে, এই ৬৯ জনের অধিকাংশেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে, পেশা গৃহিণী।নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে যাঁরা নির্বাচন করছেন, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ সবই হলফনামায় দেওয়া হয়েছে। আমরা জনগণকে এসব তথ্য জানাব। জনগণই ঠিক করবেন, তাঁরা কাকে নির্বাচিত করবেন।’সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে জেবুন্নেছা, রাজিয়া সুলতানাসহ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাতজন। তাঁদের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক পাস তাহেরা বেগম ও শাহানা খাতুন। একজন মাধ্যমিক, একজন অষ্টম শ্রেণী পাস। সাতজনের মধ্যে শাহানা বেগম দর্জি, বাকিরা জেবুন্নেছা ও রাজিয়ার মতো গৃহিণী।সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাত প্রার্থীর মধ্যে আসমা উল হুসনা ডিগ্রি পাস। বাকি ছয়জনের মধ্যে চারজন অষ্টম শ্রেণী, একজন দশম শ্রেণী ও একজন স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। একজন বুটিকের কাজ করেন, বাকিরা গৃহিণী। সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জনের মধ্যে দুজন এসএসসি পাস, দুজন স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন, একজন অষ্টম ও একজন নবম শ্রেণী পাস। এর মধ্যে নবম শ্রেণী পাস জাহানারা বেগম ব্যবসায়ী, বাকিরা গৃহিণী। সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জনের মধ্যে আলতাফুন্নেসা ও বিলকিস বানু স্নাতক। অন্য চারজনের একজন উচ্চমাধ্যমিক, একজন অষ্টম শ্রেণী পাস এবং আরেকজন স্বশিক্ষিত। তাঁদের পাঁচজনই গৃহিণী। সংরক্ষিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাতজনের দুজন উচ্চমাধ্যমিক, দুজন মাধ্যমিক, দুজন দশম ও একজন অষ্টম শ্রেণী পাস। তাঁদের মধ্যে মাধ্যমিক পাস করা সোহেলি আক্তার পেশায় দর্জি, বাকিরা গৃহিণী। সর্বোচ্চ ১১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সংরক্ষিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। এর মধ্যে একজন উচ্চমাধ্যমিক, দুজন মাধ্যমিক, একজন নবম, পাঁচজন অষ্টম ও দুজন স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। একজন পেশার ঘরে নেই লিখেছেন, বাকিরা গৃহিণী। সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাতজনের মধ্যে তিনজন উচ্চমাধ্যমিক, একজন মাধ্যমিক, দুজন অষ্টম শ্রেণী ও একজন স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। তাঁদের মধ্যে উম্মে সালমা পেশায় শিক্ষিকা, বাকিরা গৃহিণী।সংরক্ষিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চারজনের মধ্যে এমএ পাস করা ইফফাত আরা সরকারি চাকরি করেন। একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা শাহনাজ বেগম এবং উচ্চমাধ্যমিক পাস অপর দুজনও গৃহিণী। সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ছয়জনের মধ্যে দুজন মাধ্যমিক, তিনজন অষ্টম শ্রেণী পাস এবং একজন স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। পেশায় সবাই গৃহিণী। সংরক্ষিত ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আটজনের মধ্যে মাস্টার্স পাস সুলতানা রাজিয়া গৃহিণী। অপর সাতজনের দুজন উচ্চমাধ্যমিক, একজন মাধ্যমিক, তিনজন অষ্টম শ্রেণী পাস এবং একজন স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। সাতজনের পেশাই গৃহিণী। একজন পেশার ঘরে নেই লিখেছেন।



