যশোরে প্রার্থীর ওপর হামলা
শরিফুল হাসান
যশোরে বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, বিভিন্ন স্থানে ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা এবং পুলিশের ফাঁকা গুলির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় দফা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে বাঘারপাড়া বাদে চৌগাছা, শার্শা ও ঝিকরগাছায় বিচ্ছিন্নভাবে সহিংসতা ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০টি কেন্দ্রে কয়েক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এই চার উপজেলার ৩৩৬টি কেন্দ্রের সব কটিতেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
চারটি উপজেলার অর্ধশত কেন্দ্রে সারা দিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনায় দুপুরের পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কমতে থাকে।
বেলা চারটার দিকে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক অভিযোগ করেন, চৌগাছা, শার্শা ও ঝিকরগাছার ২৭৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬১টিতে অনিয়ম হয়েছে। শার্শা ও চৌগাছার নির্বাচন বর্জন করে আগামীকাল শনিবার ওই দুই উপজেলায় হরতালের ঘোষণাও দেন তিনি।
তবে নির্বাচন সার্বিকভাবে সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এন এম মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটনা ঘটলেও কোথাও আমাদের শেষ পর্যন্ত ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখতে হয়নি।’ বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব অভিযোগ সত্য নয়।
চৌগাছায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলার শিকার হন বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জহরুল ইসলাম। ২০-২৫ জন লোক জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তাঁকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে চলে যায়। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক এহসান মিথুন, সময় টেলিভিশনের জুয়েল মৃধা, ৭১ টেলিভিশনের ক্যামেরামান ফরহাদ হোসেন এবং সমাজের কথার আলোকচিত্রী পরাগকেও পেটানো হয়। এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
যশোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। তাঁরা ক্যামেরা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
চৌগাছার দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমানের লোকজন ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারতে থাকে। এ সময় বিএনপির লোকজন বাধা দিলে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ আটটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ফলে এক ঘণ্টা ভোট বন্ধ ছিল।’
শার্শা উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। শার্শার পাকশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা রিক্তা খাতুন বলেন, দুই ছেলের বউসহ তাঁরা বাড়ির ছয়জন ভোট দিতে এসেছেন।
তবে বিএনপি অভিযোগ করেছে, এই উপজেলার ৯৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২টি কেন্দ্র দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ। লক্ষ্মণপুর, কায়বা, বাগআঁচড়া, পুটখালী, গোগা, নাভারন ও শার্শা ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাসীরা ব্যালটে সিল মেরেছে।



