বেসরকারিভাবে কর্মী নিতে চায় মালয়েশিয়া

Spread the love

শরিফুল হাসান

বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে নেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও লোক নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মালয়েশিয়া। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গতকাল মঙ্গলবার রাতে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরে এই প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবে।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া। তবে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। দীর্ঘ কূটনৈতিক যোগাযোগের পর ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে সরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার চুক্তি হয়। এরপর মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের ১৪ লাখ ৫০ হাজার লোক নিবন্ধন করেন। কিন্তু গত তিন বছরে মাত্র সাড়ে সাত হাজার কর্মী নিয়েছে দেশটি। অথচ একই সময়ে ছাত্র ও পর্যটক সেজে সেখানে গেছেন অন্তত এক লাখ লোক। আর বঙ্গোপসাগর দিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছে দেড় লাখ মানুষ। সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গণকবর আবিষ্কার এবং এ নিয়ে হইচই শুরুর পর আবার বেসরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দিল মালয়েশিয়া।
গতকাল মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এত দিন সরকারিভাবে কর্মী যেত মালয়েশিয়ায়। কিন্তু তারাই এখন এর সঙ্গে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই আমি মালয়েশিয়া যাচ্ছি। তবে বেসরকারিভাবে গেলেও খরচ নিয়োগ কর্তাকেই দিতে হবে।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার, আইন মন্ত্রণালয়ের ড্রাফট উইংয়ের সচিব শহিদুল ইসলাম, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক বেগম শামছুন নাহার এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর একান্ত সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিম মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে এই সফরে থাকার সুযোগ না পেলেও বায়রার সভাপতি আবুল বাসার এবং মহাসচিব মনসুর আহমেদও মালয়েশিয়া সফরে গেছেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা অবশ্য শুরু থেকেই সরকারিভাবে লোক পাঠানোর বিরুদ্ধে ছিল। ২০১২ সালে এ প্রক্রিয়া শুরুর পর তারা প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর পদত্যাগও চেয়েছিল। একপর্যায়ে তারা কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিয়ে ধর্মঘট শুরু করে। কিন্তু খন্দকার মোশাররফ তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলেন।
মন্ত্রণালয় ও বায়রা সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকারিভাবে লোক নেওয়ার চুক্তি করলেও সে অনুযায়ী চাহিদাপত্র পাঠায়নি। উল্টো তারা অবৈধভাবে যাওয়া লোকদের কাজ দিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের বৈধ বাজার যেমন সংকুচিত হয়েছে, তেমনি অবৈধভাবে যাওয়া উৎসাহিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো বেসরকারিভাবে কোনো অনুমোদন দিইনি। কিন্তু এটা তো ঠিক, অবৈধভাবে লোক গেছে। বিমানবন্দর ম্যানেজ করে হোক কিংবা অন্য কোনো অবৈধ উপায়েই হোক, তারা গেছে। সবকিছুতে চাইলেও তো আমরা হাত দিতে পারি না।’
জনশক্তি রপ্তানিকারক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথ সংকুচিত হওয়ায় অবৈধভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ নিচ্ছে দালালেরা। যাওয়ার আগে টাকা লাগে না, আবার কোনো রকমে পৌঁছালেই কাজ মিলছে—দালালদের এমন প্রলোভনে পা দিচ্ছে সহজ-সরল মানুষ।
মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এবং বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক রেজাউল করিম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান আছে। তারা বেশি টাকা লেভি দিয়ে সরকারিভাবে লোক আনতে চায় না। এর বদলে তারা অবৈধভাবে আসা লোকদের কম বেতনে কাজ দেয়। আর দালালেরাও অবৈধভাবে আসা লোকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ দেয়। বেতনের একটা অংশও দালালেরা রেখে দেয়। এ ব্যবস্থা ভাঙতে হলে বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে লোক পাঠানোর পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও পাঠাতে হবে।’ .

Leave a Reply

Your email address will not be published.