প্রবাসে দুই লাখ নারী কর্মী

Spread the love

শরিফুল হাসান

বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী নারীকর্মীর সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। ১৯৯১ সালে যেখানে বছরে দুই হাজার নারীকর্মী বিদেশে যেতেন, এখন সেখানে প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নারীকর্মী বিদেশে যাচ্ছেন। এ মুহূর্তে প্রায় দুই লাখ নারীকর্মী বিদেশে আছেন।বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, কাতার, কুয়েত, মরিশাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে বর্তমানে দুই লাখের বেশি নারীশ্রমিক কাজ করছেন। পুরুষের পাশাপাশি তাঁরাও অবদান রাখছেন জাতীয় অর্থনীতিতে। তবে নারীশ্রমিকদের একটা অংশ নির্যাতন, নিপীড়ন ও হয়রানির মুখেও পড়ছে, বিশেষ করে লেবাননে। তাই নারী অভিবাসন সংগঠনগুলো নারীশ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসনের দাবি জানিয়েছে।জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামসুন্নাহার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা বিশ্বে অভিবাসী শ্রমিকদের ৪৯ শতাংশই নারী। কিন্তু বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ ছিল নারী। আমাদের সচেতনতা ও প্রচারণার কারণে এখন অভিবাসীদের মধ্যে ৫ শতাংশ নারী। এর কারণও আছে। বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থার কারণে একটি মেয়েকে কেউ চট করে বিদেশে পাঠাতে চায় না। তবে আমরা এখন ২১ দিনের একটি বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠাচ্ছি।’বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক লাখ ৮৭ হাজার ১৩১ জন নারী চাকরি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছেন লেবাননে। এই সংখ্যা ৫৮ হাজার ৪৫২ জন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫১ হাজার ৫০৮ জন, সৌদি আরবে ৩১ হাজার ৫৪২ জন, জর্ডানে ১২ হাজার ৫৩৮ জন, মরিশাসে আট হাজার ৯৭৫ জন, কুয়েতে সাত হাজার ৬৫৮ জন, মালয়েশিয়ায় ছয় হাজার ৪৬৮ জন, ওমানে চার হাজার ১২৮ জন ও বাহরাইনে তিন হাজার ৪৮৭ জন নারীকর্মী গেছেন। এর বাইরেও লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি, হংকং, সাইপ্রাস ও ব্রুনেই যাচ্ছেন অভিবাসী কর্মীরা।বাংলাদেশ মহিলা অভিবাসী শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের (বমসা) পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অভিবাসী নারীদের সমস্যাগুলোও সমাধানের উদ্যোগ নেই। বিশেষ করে, লেবাননে যাওয়া নারীরা কিছু সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে নজরদারি করা দরকার। সেখানে একটি দূতাবাস স্থাপন করা জরুরি।প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নারীকর্মীদের হুট করে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত না দিয়ে একটু খোঁজখবর নিয়ে বিদেশে যাওয়া উচিত। তাঁদের চাকরি-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দেওয়ার জন্য বিএমইটি ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বিএমইটি ভবনে ‘নারী অভিবাসী তথ্যকেন্দ্র’ স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সির খোঁজ, ভিসা পরীক্ষা—যেকোনো তথ্যের জন্য নারীকর্মীরা এখানে যোগাযোগ করতে পারেন। কোন দেশে যাচ্ছেন, কী কাজে যাচ্ছেন, কত বেতন—এসব না জেনে বিদেশে যাওয়া উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.