ফিরে আসা কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন লিবিয়ার শ্রমবাজারে
শরিফুল হাসান
লিবিয়া থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি কর্মীরা সে দেশের পুনর্গঠনে অগ্রাধিকার পাবেন। এরই মধ্যে লিবিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি ফিরে আসা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পরেই নিয়মিতভাবে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়া শুরু হবে। তাতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে।বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। লিবিয়ার শ্রমবাজার-পরিস্থিতি জানিয়ে সম্প্রতি দূতাবাস থেকে ঢাকায় বার্তা পাঠানো হয়েছে।জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, লিবিয়া থেকে ফেরত আসার সময়ই বাংলাদেশের অনেক শ্রমিককে সে দেশের কোম্পানিগুলো বলেছিল, পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার তারা তাদের নিয়োগ দেবে। এরই মধ্যে বড় কয়েকটি কোম্পানি বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। ইতালিয়ান কোম্পানি বনাত্তি এরই মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশির নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে। অন্য বড় কোম্পানিগুলোও তাঁদের ফিরে আসা শ্রমিকদের খোঁজখবর নিচ্ছে।গাদ্দাফির বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং এ নিয়ে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর প্রায় ৩৭ হাজার বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে ফিরে আসতে হয়। প্রায় আট মাসের যুদ্ধাবস্থা শেষে গত ২০ অক্টোবর লিবিয়ার শাসক গাদ্দাফি মারা যান। ২৩ অক্টোবর সরকারিভাবে লিবিয়া মুক্ত ঘোষণা করা হয়। ৩১ অক্টোবর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ক্রমে সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। শুরু হয়েছে পুনর্গঠনের কাজ। ফলে আবার সেখানে শ্রমবাজারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিবিয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপটে গৃহায়ণ ও তেলক্ষেত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের কাজে রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীর দরকার হবে।’নতুন শ্রমবাজারের জন্য বাংলাদেশ কী করছে—জানতে চাইলে আহসান কিবরিয়া বলেন, ‘দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের পুনর্নিয়োগসহ নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য এরই মধ্যে প্রায় ২০টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করা হয়েছে। সবাই কর্মীদের নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের পুনর্নিয়োগ ও নতুন কর্মী অভিবাসনের ক্ষেত্রে আগেই সবাইকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। নইলে এখানে এসেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে।’বিষয়টি সম্পর্কে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিবিয়া থেকে ফিরে আসা সব বাংলাদেশির ঠিকানা মন্ত্রণালয়ে আছে। কাজেই লিবিয়ার কোম্পানিগুলো চাইলে তাঁদের আগে পাঠানো হবে। তবে কোনোভাবেই অবৈধ পন্থায় কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হবে না।’



